যদি

যদি হামের টিকা ঠিকমতো দেওয়া হতো, তাহলে এতগুলো শিশু মারা যায় না। হাসপাতালে এমন নরকের ছবি তৈরি হয় না। অতগুলো ফেরেশতাতুল্য শিশুর শরীর বাবাকে কাঁধে বহন করতে হয় না!
বটে, দোষ কি তাহলে শুধু আমাদের? ইউনূস সরকার বা তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এমন কিছু বলার আগেই তাদের হয়ে মাঠে নেমে গেলেন বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনির্বাচিত সরকারের সুবিধা এই যে, কাজ শেষে সোজা বাড়ি চলে যাওয়া যায়। কোনো দায় নেই, পিছু ধাওয়া নেই; নেই কোনো জবাবদিহি। ধরা যাক, সে সময় কোনো একটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় ছিল। তাহলে নিশ্চিতভাবেই তাদের সংশ্লিষ্ট লোকজন কোনো একটা ব্যাখ্যা দিতেন। অবশ্য সেটাও লোক হাসানো হতো, যা হয় আর কী, হয়তো তিনি তার আগের সরকারকে দোষ দিলেন! দেখা গেল, তার আগের সরকারও তার দলের, তখন গুনে বের করতেন তার আগে, তার আগে কবে কখন প্রতিপক্ষ দল ক্ষমতায় ছিল। এসব নিয়ে আমরা ক্ষুব্ধ হতাম আগে, তারপর একসময় দেখতে দেখতে সব আমাদের সয়ে গেল। আমরা চুপ থাকতাম বা হয়তো কষ্টে হাসতাম। ভেবেছিলাম এটাই পরিহাসের শেষ। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দেখাল নতুন ম্যাজিক! দায়িত্বে থাকার সময় দায়িত্বহীনতা দেখিয়ে দায়িত্বের শেষে দরজা বন্ধ করে দেওয়া।
আচ্ছা, যদি তখন অত বড় বিজ্ঞদের সরকার না হয়ে সাধারণ একটা রাজনীতির সরকার থাকত! হয়তো হাসাত, তবু তো কথা বলত। বললে অন্তত জানা যেত, সে সময় মাথাটা কীভাবে কাজ করছিল। শিশুদের বাঁচাতে পারি না, শিশুদের স্বজন হয়ে কাকে দোষ দেব বুঝতে পারতাম। ভাগ্যকে, সময়কে, দেশকে, না নিজেকে? অবশ্য সবচেয়ে ভালো বোধহয় নিজেকেই দোষ দেওয়া। কোনো ঝুঁকি নেই। সব দোষ আমাদের। আমরাই যত নষ্টের গোড়া বলে আমাদের শিশুরা মারা যায়। তবু দিন যায়। তবু সরকারি মানুষ আরামে-আনন্দে থাকে!




