প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের প্রাণশক্তি: রাষ্ট্রপতি

ছবি: আগামীর সময়
প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি লাখো পরিবারের জীবনমান পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের শ্রম, ত্যাগ ও অর্জনের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও শ্রমিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার রূপসী বাংলা হলে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রমবাজারে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে নারী কর্মীদের গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানোর ক্ষেত্রে যে ভুল নীতি নেওয়া হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গত ১৭ বছরে দেশকে আমদানিনির্ভর করে রাখার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র ছিল। তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য শুধু লুটপাট নয়, দেশকে দুর্বল করে দেওয়াও ছিল। তিনি অতীতের নীতিমালা থেকে বেরিয়ে এসে প্রবাসীদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করায় রামরুকে ধন্যবাদ জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন ভবিষ্যতেও সরকারের নীতিনির্ধারণে সংস্থাটির অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



