৪ দশক পর অভিনয়ে জামিল আহমেদ

‘গোলমাথা আর চোখামাথা’ নাটকে বিচারকের ভূমিকায় অভিনয় করবেন জামিল আহমেদ।
১৯৮৪ সালে ‘ফণীমনসা’ নাটকে শেষবার অভিনয় করেছিলেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পর আবারও অভিনয়ে ফিরছেন খ্যাতিমান এই নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষক। স্পর্ধা প্রযোজিত ‘গোলমাথা আর চোখামাথা’ নাটকে জামিল আহমেদকে একজন বিচারকের ভূমিকায় দেখা যাবে।
জার্মান নাট্যকার বের্টল্ট ব্রেখটের নাটকটি অনুবাদ করেছেন অনিরুদ্ধ অনু এবং পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিচ্ছেন মহসিনা আক্তার। জামিল আহমেদ আগামীর সময়কে বললেন, ‘এখন নাটকের মহড়ায় অংশ নিচ্ছি। এই নাটকের নির্দেশক মহসিনা আক্তার আমার ছাত্রী। এটা আমার জন্য গৌরবের। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা খুবই আনন্দের।’
নাটকটিতে বেবি বুমার থেকে জেনজি—চার প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটছে বলে স্পর্ধা সূত্রে জানা গেছে। জামিল আহমেদ ছাড়াও নাটকটিতে তিতাস জিয়া, ফাইযা চৌধুরী, ফাতিমা নুজহাত কাদেরী, শামস ইমন, ইভা আফরোজ খান, নুসরাত জাহানসহ অনেকে অভিনয় করছেন।
নাটকটি আগে স্পর্ধা একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টসের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মঞ্চে এনেছিলেন মহসিনা আক্তার। এবার নাটকটির প্রদর্শনী হবে টানা দিন। আগামী ২৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়, ২৪ জুলাই বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এবং ২৫ জুলাই বিকেল ৪টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে এ নাটকটি দেখা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক জামিল আহমেদ। নাট্যনির্দেশক হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে তার। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকও ছিলেন। ছয় মাসের মাথায় তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপসহ বেশকিছু অভিযোগ তোলে পদত্যাগ করেন।
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষকতা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করা সৈয়দ জামিল ১৯৭৮ সালে ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বছরে তিনি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার টেলিভিশন প্রডিউসারস ট্রেইনিংয়ে প্রথম হন।
১৯৮৯ সালে তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক থেকে থিয়েটার আর্টসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তার নির্দেশনায় মঞ্চে এসেছে ২০টির বেশি নাটক। এর মধ্যে রয়েছে— সেলিম আল দীন রচিত ‘চাকা’, মীর মশাররফ হোসেনের ‘বিষাদসিন্ধু’, পালাগান থেকে করা ‘কমলা রানীর সাগর দিঘী’, মনসা মঙ্গল থেকে ‘বেহুলার ভাসান’ ও সংযাত্রা অবলম্বনে ‘সংভংচং’মঞ্চে এনেছেন তিনি।
রবি ঠাকুরের লেখা অবলম্বনে ‘শ্যামার উড়াল’, কাশ্মীরি কবি আগা শহীদ খানের লেখা অবলম্বনে ‘রিজওয়ান’, শহিদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’, সারাহ কেইনের ‘ফোর পয়েন্ট ফোর এইট সাইকোসিস’ অবলম্বনে ‘মন্ত্রাস’ এবং একক অভিনীত নাটক ‘বিস্ময়কর সবকিছু’ রয়েছে তার নির্দেশনার তালিকায়। ৭০টির বেশি মঞ্চ প্রযোজনার আলোক নির্দেশনা ও ৮০টির বেশি নাটকে মঞ্চপরিকল্পনা করেছেন সৈয়দ জামিল আহমেদ। ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তার নেতৃত্বে গঠিত হয় অলাভজনক ও পেশাদার নাট্যদল ‘স্পর্ধা : ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ’।




