যৌতুকের জন্য হত্যা
১৪ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড, সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলেকে অর্থ দেওয়ার নির্দেশ

আজ সকালে কারাগার থেকে আসামি সায়েদকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৪ বছর পর স্বামী সায়েদ আহমেদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ (রবিবার) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন। পাশাপাশি সায়েদকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী ছেলেকে দেওয়ার জন্য ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
এদিন কারাগার থেকে আসামি সায়েদকে আদালতে হাজির করা হয় ৷ তার উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২৫ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সায়েদ আহমেদ ও রেহানা বেগম। বিয়ের পর থেকেই সায়েদ যৌতুকের টাকা এবং রেহানার নামে থাকা বাড়ি লিখে দিতে মারধর করতেন। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রেহানার মা রেজিয়া বেগম কন্যার নামে কামরাঙ্গীরচরে কিনে দেওয়া বাড়িতে যান। অনেক সময় ডাকাডাকির পর সায়েদ দরজা খুলে দেন। রেজিয়া বেগম সেখানে সায়েদ ও তার ভাই শফি আহমেদকে দেখতে পান। রেহানাকে দেখতে পান ছেলেকে নিয়ে শুয়ে আছে।
মেয়েকে জাগানোর জন্য গায়ে হাত দিলে দেখেন, তার শরীর ঠান্ডা এবং মুখে লাল লাল দাগ। শ্বাস নিচ্ছে না দেখে চিৎকার করেন রেজিয়া। চিৎকার করে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে সায়েদ ও শফি বাধা দেন। সেখানে কুলসুমা নামে একজন রেজিয়াকে জানান, যৌতুক হিসেবে বাড়ি লিখে দিতে ঝগড়া করত সায়েদ। ওই দিন সকাল থেকে সায়েদ ও তার ভাই রেহানাকে মারধর করেছে। কন্যার মৃত্যুর কথা শুনে জ্ঞান হারান রেজিয়া।
জ্ঞান ফিরলে জানতে পারেন, রেহানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সায়েদ ও শফি জানান, রেহানা স্ট্রোক করেছে। তাকে তাড়াহুড়ো করে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। রেজিয়া কামরাঙ্গীরচর থানায় যান মামলা করতে। তবে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নেয়নি।
পরে রেজিয়া ৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সায়েদ ও শফির নামে মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগের বিষয়ে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। রেহানার লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো যেতে পারে মর্মে মতামত দিয়ে ১৬ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেয়।
রেজিয়া এ বিষয়ে নারাজি দাখিল করলে আদালত সিআইডি পুলিশকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্ত করে সায়েদকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে শফির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাননি তিনি। এরপর সায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলার সময় ট্রাইব্যুনাল ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

