আটকে গেল কারামুক্তি
সাতটিতে জামিনের পর আরেক মামলায় গ্রেপ্তার খায়রুল হক

এ বি এম খায়রুল হক। ফাইল ছবি
সাতটি মামলায় জামিন বহাল থাকার পরও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হলো যাত্রাবাড়ী থানার আরেকটি হত্যা মামলায়। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ফলে এখনই কারামুক্তি হচ্ছে না সাবেক প্রধান বিচারপতির।
আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে পুলিশি প্রহরায় খায়রুল হককে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এ সময় তিনি হুইলচেয়ারে ছিলেন এবং মাথায় ছিল হেলমেট। বেলা ১১টা ১৯ মিনিটে তাকে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তার হাতে একটি পানির বোতল দেখা গেলেও কোনো হাতকড়া ছিল না। একটু পর কয়েকজন আইনজীবীকে মামলার ফাইল দিয়ে তাকে বাতাস করতে দেখা যায়। পরে তার জন্য স্ট্যান্ড ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। তবে তখন শুনানি হয়নি।
বিকেল ৩টার পর ফের তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গ্রেপ্তার দেখানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলছিলেন, খায়রুল হক তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় দিয়েছেন। এজন্য শেখ হাসিনা তাকে পুরস্কার হিসেবে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করেন। তবে এই পুরস্কার তার জন্য ছোট হয়েছে। এই মামলার তদন্ত করতে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানান।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান, আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন গ্রেপ্তার দেখানোর বিরোধিতা করেন। শুনানিতে মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে এমন কিছু নেই, যে কারণে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে। এই মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি নয়। এই মামলার ঘটনার সময় হচ্ছে বেলা ১১টা। আবার আদাবর থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সেই মামলার ঘটনাও বেলা ১১টায়। একই সময়ে একজন ব্যক্তি দুই জায়গায় থাকতে পারেন না।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালত সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।






