কাঠগড়ায় সুলতান মনসুর, ‘জামিন পেয়ে ৩ দিনে চারটি মামলা হয়েছে’

সংগৃহীত ছবি
উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গত ৩ দিনে নিজের বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।
আজ বুধবার পল্টন মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টার মামলার শুনানিতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন৷ তবে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে তোলা হয়। এসময় হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানো ছিল। এরপর তার উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়।
প্রথমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক আবু সালেহ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি জানান, মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামির প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করেন। শুনানি চলাকালে কথা বলতে চেয়ে মনসুর আহমেদ বিচারকের অনুমতি প্রার্থনা করেন। এসময় তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘যেই আসনে বসে আছেন সেই থেকে সিদ্ধান্ত নিবেন৷ দুই বছর পরে পুনরায় কোর্টে হাজির করা হয়েছে। আমি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে জোটে ছিলাম, সংসদে ছিলাম। ডাকসুর ভিপি ছিলাম। আমাদের নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল, এরশাদের পতন হয়েছিল। যখনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেয়া হয়েছে, তখনি গত ৯ অক্টোবর থেকে এই তিন দিনে চারটি মামলা হয়েছে। আমি আপনাকে (বিচারক) দৃঢ়ভাবে সাক্ষী রেখে বলতে চাই, সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলবো। ২০২২ সালে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি সংসদে ছিলাম। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে নির্বাচন করেছি।’
‘আমাকে আজকে এই সমস্ত মামলায় জড়িত করার কারণ আমার জানা নেই। আমি আশা করি, আপনি বিবেচনায় নিবেন। আমার পরিবার অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে খারাপ অবস্থায় আছে। ১৯৬৮ সাল থেকে আমার রাজনৈতিক জীবনে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি। আন্দোলন চলাকালে আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এখন আপনার বিবেচনার বিষয়।’
তবে শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেয় আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৯ অক্টোবর তাকে নতুন করে পল্টন মডেল থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।



