রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, আদালতে সোহেল রানা

অভিযুক্ত সোহেল রানা। ফাইল ছবি
আদালতে হাজির করা হয়েছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে তাকে আনা হয় আদালতে। এর পর রাখা হয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদালতে হাজির করা হয়নি মামলার অপর আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। আসামিদের উপস্থিতিতে আজ ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন শুনানি হবে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোবার ঘরে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। স্বপ্না সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
এ ঘটনার দিন দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলার প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয় স্বপ্না আক্তারকে। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন। এছাড়া আসামিপক্ষে পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমূল্যাহকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করে আইন মন্ত্রণালয়।






