চিফ হুইপ
ব্যাংকিং খাতের টেকসই সংস্কারে গভীর আলোচনা প্রয়োজন

ছবি: আগামীর সময়
‘আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন’— উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
‘দেশের বিদ্যমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার একটি ‘মানবিক, জনকল্যাণমুখী ও সাশ্রয়ী’ বাজেট প্রণয়ন করেছে’— যোগ করেন চিফ হুইপ।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএবি) আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটবিষয়ক সভায় এ কথা বলেছেন চিফ হুইপ।
ব্যাংকিং খাতের অনিশ্চয়তা ও আমানতকারীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন চিফ হুইপ। বললেন, বিগত সরকারের সময় এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, যার ফলে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারী তার জমার পরিমাণ যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকাই ফেরত পেতেন। আমার প্রশ্ন, কেন এ ধরনের আইন করা হয়েছিল এবং কেন জনগণকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল?
তার মতে, তৎকালীন সরকার ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ব্যাংকিং খাতকে তখন কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এ খাতের টেকসই সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।
দেশের অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে গঠনমূলক সমালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান চিফ হুইপ।
এমএবি’র সভাপতি সৈয়দ আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং ড. মো. শামসুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ. কে. এম. ওয়ারেছুল করিম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন— সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, জুবায়ের আহমেদ বাবুসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া এদিন রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এক সংলাপেও অংশ নেন চিফ হুইপ মনি। সেখানে তিনি বলেছেন, আধুনিক সভ্যতায় বিদ্যুৎ ছাড়া উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি কল্পনা করা যায় না। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি’র উদ্যোগে ‘সোলার রেভল্যুশন: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
‘বর্তমান বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। সরকার সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে’— উল্লেখ করেন নুরুল ইসলাম মনি।
চিফ হুইপ আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে মালয়েশিয়া ও চীন সফরে রয়েছেন। এ সফর দুটি বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নতুন বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়ে দেশবাসী শিগগিরই সুখবর পাবে— এমন প্রত্যাশা নূরুল ইসলামের।





