ডিএমপির নতুন কমিশনার
নিরাপদ নগরী গড়াই প্রধান চ্যালেঞ্জ

ছবি: আগামীর সময়
একটি নিরাপদ নগরী গড়াই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। এজন্য তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন।
কমিশনারের ভাষ্য, একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তোলাই হচ্ছে আমার চ্যালেঞ্জ। কারণ এই নিরাপদ মহানগরী গড়ে তোলার জন্য যে কাজগুলো করতে হবে, সেই কাজগুলো হচ্ছে আমাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের যেমন পুলিশ সদস্যের অপ্রতুলতা আছে, আমাদের দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, ভাসমান জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি, বস্তি এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বেশি। এগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি আমাদের যে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বিশেষ করে অনলাইন প্রতারণা, অনলাইন যেটা মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতি সাইবার অপরাধ এগুলো কিন্তু দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। কিশোর গ্যাং, মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান। সবকিছু মিলে এই মহানগরী গড়ে তোলার জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’
এ সময় নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আমাদের জনগণের উদ্দেশে যেটা আমি বলতে চাই— আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন এবং পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি যেকোনো ছোট সংবাদ, ছোট অপরাধ হলেও তথ্য দিতে আপনারা ভুল করবেন না। কারণ ছোট অপরাধ থেকে বড় অপরাধের সৃষ্টি হয়।
যানজট নিয়ে কমিশনার বলেছেন, ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যা ট্রাফিক জ্যাম। আমরা ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও সচল করতে নিত্যনতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। আমরা এরই মধ্যে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে প্রযুক্তিনির্ভর করেছি। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এআই ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কমিশনার বলেন, নাগরিকদের অনলাইন জিডি করার সুবিধাসহ সকল ধরনের অপরাধের তথ্য শেয়ার করার জন্য “হ্যালো ডিএমপি” এবং হোটেলে অবস্থানকারী সন্দিগ্ধ ব্যক্তি ও অপরাধী সনাক্তকরণের নিমিত্তে ‘হোটেল বোর্ডার সিস্টেম’সহ বেশ কিছু প্রযুক্তি নির্ভর অ্যাপস চালু করা হয়েছে। ডিএমপিকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাট, ঈদ জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘরমুখী মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও রেলস্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের ছুটিতে নগরীর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে ব্যাংকে লেনদেন করার জন্য এবং বড় অংকের আর্থিক লেনদেন করলে পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন ঈদকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জালনোট প্রতিরোধে ডিবি ও থানা পুলিশকে সক্রিয় করা হয়েছে। ডিএমপি’র প্রতিটি থানায় মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। আমরা ঢাকার সম্মানিত নাগরিকদের মতামত নিয়ে সর্বোত্তম পুলিশি সেবা দিতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে জনসাধারণের সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কাজ করা দুরূহ। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ঢাকার এই বিশাল জনসমষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল পুলিশের একার পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। আইনশৃঙ্খলার টেকসই উন্নয়ন এবং একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আমি সম্মানিত নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনার এলাকায় কোনো ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং, মাদক কারবারি কিংবা চাঁদাবাজের তথ্য থাকলে অবিলম্বে পুলিশকে জানান। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে জানান, পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে। পুলিশের কোন সদস্য যদি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আপনাদের একটি সঠিক তথ্য বড় কোনো অপরাধ বা দুর্ঘটনা রুখে দিতে পারে। আসন্ন ঈদুল আযহায় পশুর হাটে কেনাবেচা থেকে শুরু করে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় আপনারা সচেতন থাকবেন এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলে আমাদের আধুনিকায়নের এই যাত্রাকে সফল করতে সহায়তা করবেন।
কমিশনার বলেন, আপনারা আপনাদের লেখনী ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, তেমনি পুলিশের ভালো কাজেরও প্রচার করে নগরবাসীকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন। আপনাদের কাছে যদি চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকসহ যে কোনো অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকে আমাদেরকে দিন, আমরা ব্যবস্থা নিব।
পুলিশ, গণমাধ্যম ও জনগণ — আমরা সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে ঢাকাকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। ডিএমপি সবসময় আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে, বলেন ডিএমপি কমিশনার।
মিট দ্যা প্রেসে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোঃ মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি উপস্থিত ছিলেন।




