বোর্ডের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত ইডিসিএলের এমডির দায়িত্বে কোম্পানি সচিব

সংগৃহীত ছবি
সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) নবনিয়োগপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ.কা.মো. আশরাফুজ্জামানকে আপাতত দায়িত্ব পালন থেকে রাখা হয়েছে বিরত।
বোর্ডের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব মো. মোজাহিদুল ইসলাম নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি এমডির চলতি দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটির ১৯০তম বোর্ড সভায় নেওয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। ইডিসিএলের এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে বিষয়টি।
বোর্ড সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আ. কা. মো. আশরাফুজ্জামানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হলেও এ ধরনের নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে ইডিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার সম্পাদিত চুক্তিপত্রের কপি, পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর সেগুলো পরবর্তী বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হবে। বোর্ডের অনুমোদন মিললে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এমডির দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
এর আগে গত ২১ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আ.কা.মো.আশরাফুজ্জামানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এমডি হিসেবে দেওয়া হয় নিয়োগ।
এ নিয়োগ নিয়ে গত ২৪ মে ‘আগামীর সময়তে’ ‘অনুমোদন ছাড়াই এসেনসিয়াল ড্রাগসের এমডি নিয়োগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিধান রয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাবের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু আশরাফুজ্জামানের নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ড সভা বা অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়োগের বিষয়ে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারাও অবগত ছিলেন না। সে সময় বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এবং স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী সরকারি সফরে জেনেভায় অবস্থান করছিলেন।
সংবাদ প্রকাশের পর সচিবালয় ও স্বাস্থ্য খাতে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
সূত্র জানায়, গত ২৪ মে আশরাফুজ্জামান যোগদানপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ইডিসিএলের ওয়েবসাইটে তাকে এমডি হিসেবে দেখানো হয় এবং তার নাম ও ছবি প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি এমডি হিসেবে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের বোর্ড সভায় নতুন এমডির পরিবর্তে কোম্পানি সচিবকে নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা।




