চুরি-ছিনতাইয়ে সক্রিয় ‘পাটালি গ্রুপ’
- মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট

র্যাবের সংবাদ সম্মেলন
রাজধানীর মোহাম্মদপুর। একসময় শান্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এ এলাকার নাম বারবার উঠে এসেছে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই আর সন্ত্রাসের খবরে। আর সেই আলোচিত গ্যাংগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘পাটালি গ্রুপ’। র্যাবের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই মোহাম্মদপুরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল এই গ্রুপ। অবশেষে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে র্যাব।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাটালি গ্রুপের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামীম পাটালিসহ মোট আটজনকে।
অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড তাজা গুলি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। র্যাবের দাবি, এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছিনতাই চালাত এই চক্র।
র্যাব জানিয়েছে, গত শনিবার গ্রেপ্তার করা হয় গ্রুপটির সদস্য খোকন মুন্সী ও সজীব ব্যাপারীকে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলিসহ ধরা হয় শামীম পাটালিকে। একই রাতে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে শাকিউল করিম ও আরিফকে একটি চাপাতিসহ এবং বাবর রোড এলাকা থেকে হৃদয়, নয়নকে আরেকটি চাপাতিসহ আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুন রায়েরবাজার এলাকা থেকে জুয়েল ও শাকিল নামে আরও দুই সদস্যকে একটি তরবারিসহ গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, শামীম পাটালির বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় রয়েছে চুরি, দস্যুতা, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর আঘাত, মাদকসহ আটটি মামলা। এ ছাড়া আরিফের বিরুদ্ধে চারটি, হৃদয়ের বিরুদ্ধে সাতটি ও জুয়েলের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে। খোকন মুন্সীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও যৌতুকের মামলা, আর সজীব ব্যাপারীর বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, মোহাম্মদপুরের আলোচিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আরমান ও শাহরুখ গ্রুপের সদস্যদের এখনো কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি?
জবাবে র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেছেন, ‘টাইম উইল সে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত অনেক বিস্তৃত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।’
আর মোহাম্মদপুর কবে নিরাপদ হবে— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, পুলিশ, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাতেই এলাকাটি আবার নিরাপদ হয়ে উঠবে।




