ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রথমবার নিজস্ব বৈজ্ঞানিক জরিপে ডিএসসিসি

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্ভাব্য ডেঙ্গু হটস্পট শনাক্ত করে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আজ রবিবার নগর ভবনের বুড়িগঙ্গা হলে জরিপ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি উল্লেখ করেন, ডেঙ্গু এখন নগরজীবনের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। তাই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই এর উৎস চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তার ভাষ্য, প্রথমবারের মতো ডিএসসিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচালনা করছে এই জরিপ। কোথায় এডিস মশার প্রজনন বেশি এবং কোন এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে শুরুতেই।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নির্বাচন করা হয়েছে নমুনা হিসেবে। ১২ দিনব্যাপী এ জরিপে অংশ নিচ্ছেন ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী। সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে।
তথ্য সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কবো টুলবক্স’। জরিপ শেষে ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই), হাউজ ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই) বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বিভিন্ন এলাকার ঝুঁকির মাত্রা।
অনুষ্ঠানে মাঠকর্মীদের সতর্ক করে মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেন, মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন এটি। কোনো এলাকায় না গিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দিলে তা শামিল হবে মানুষের জীবন নিয়ে খেলার। জরিপে দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না কোনোভাবেই।
উদ্বোধনের পর তিনি ফুলবাড়িয়া মোড়ের কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালে পরিদর্শন করেন চলমান জরিপ কার্যক্রম। সেখানে হাসপাতাল চত্বরে জমে থাকা পানি, বর্জ্য এবং এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় প্রকাশ করেন অসন্তোষ। পরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্দেশ দেওয়া হয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এবং লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটানো হয় তাৎক্ষণিকভাবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, জরিপ চলাকালে যেসব স্থানে এডিসের লার্ভা বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ পাওয়া যাবে, সেখানে সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। পাশাপাশি নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমও করা হবে জোরদার।





