অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সংগৃহীত ছবি
পেশাগত স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সব বিভাজন ভুলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতনকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিন।
রবিবার দুপুরে বঙ্গভবনে ঠাকুরগাঁও সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকার ৪৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আহ্বান জানান তিনি। সংগঠনটির সভাপতি মানিক মুনতাসির ও সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবাদিকদের যথাযথ কল্যাণ ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে না পারা সমাজের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় সব বিভাজন ভুলে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্র ও সমাজের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের নির্ভীক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অনিয়ম, দুর্নীতি ও অন্যায় জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি অপসাংবাদিকতা, অপতথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রতিরোধেও মূলধারার গণমাধ্যম ও পেশাদার সাংবাদিকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
ঢাকায় কর্মরত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জেলার প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মমত্বের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ‘আমি যে শিকড় থেকে এসেছি, যে শিকড় থেকে আমার বেড়ে ওঠা, সেই শিকড়কে আমি ধরে রাখতে চাই।’ ঠাকুরগাঁওকে সাম্প্রদায়িকতা ও মাদকমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবাদিকদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য ফোরামের সদস্যদের অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। দেশ ও ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলায় চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ থাকা এবং জেলার সাফল্য ও অর্জন জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে ফোরামের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে ফোরামের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তারা সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া সংগঠনের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন এবং গুরুতর অসুস্থ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসার বিষয়েও রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সংগঠনটির সমৃদ্ধি ও সদস্যদের সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




