স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘হেলথ পুলিশ’ গঠনের দাবি

বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলন
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় হেলথ পুলিশ গঠন, শয্যার অধিক রোগী ভর্তি না করানো, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণসহ ১৭ দাবি জানিয়েছে ‘বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন’।
সংগঠনটি বলছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক এবং রোগী— উভয়ই উপকৃত হবেন।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এ দাবিগুলো জানায় সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি জানায়, দেশের জন্মলগ্ন থেকে স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে। তবে হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসকদের নিরাপত্তার কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। এই নিরাপত্তা জোরদার করতে পর্যটন ও রেলওয়ে পুলিশের আদলে একটি বিশেষায়িত ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, ডিজিটাল ইমার্জেন্সি রেসপন্স সিস্টেম চালু, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় মামলা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ‘চিকিৎসক ও রোগী প্রতিপক্ষ নয়, সহযোদ্ধা’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় প্রচারণারও আহ্বান জানান তারা।
প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও প্রয়োজনভিত্তিক কাঠামো গঠনের দাবি তোলা হয়। এ ছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কর্মচাপ কমাতে দৈনিক রোগী দেখার সর্বোচ্চ সীমা ৪০ জন নির্ধারণ করার প্রস্তাব জানানো হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগী যেন ভর্তি না করা হয়, সেটিও উল্লেখ করেন বক্তারা।
জরুরি স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে ‘কোড ব্লু’ সেবা চালুর পাশাপাশি জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিটের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগে কর্মরতদের জন্য ‘ঝুঁকিভাতা’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনকারীদের ভাতা প্রদান, ন্যায়ভিত্তিক ছুটি ব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশনব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে সরকারি খরচে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও চিকিৎসকদের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোয় ১০ জন করে আনসার সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়ায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান বিসিএস হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ নিয়ামত হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘এর আগে রংপুরে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা রোগীর মৃত্যু হয়। যাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ মেয়াদে পর্যটন ও রেলওয়ে পুলিশের আদলে স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট (স্বাস্থ্য পুলিশ) গঠন করা জরুরি। এ ছাড়া কভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতেও আমাদের মতো চিকিৎসকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আবার নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর অস্ত্রোপচারে অংশ নিতে গিয়ে একজন চিকিৎসকও সংক্রমিত হয়েছেন। এ রকম আরও ঘটনা রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পেশাগত ঝুঁকির কথা চিন্তা করে সরকারকে ঝুঁকিভাতা চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দাবিগুলো বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান চিকিৎসকদের বৃহৎ সংগঠন ‘প্ল্যাটফর্ম’-এর প্রতিনিধি রাবেয়া আক্তার স্বর্না।






