বরিশাল
রোগীর মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে সংঘর্ষ, চিকিৎসক ও স্বজন আহত

সংগৃহীত ছবি
বরিশালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজন আহত হন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুপক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
বুধবার (১০ জুন) বিকালে নগরীর বাকলার মোড় এলাকার কেএমসি হাসপাতালে ঘটেছে এ ঘটনা। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবুগঞ্জের উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা মনির খান (৩৮) মারা যান। তিনি আব্দুল হকের ছেলে।
মৃতের চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন অভিযোগ করেন, বড় ধরনের স্ট্রোকের পর মনির খানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার বিকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকা হলেও তিনি দেরিতে আসেন।
ফয়সালের ভাষ্য, চিকিৎসক এসে রোগীর পালস না পেয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় চিকিৎসকের সঙ্গে স্বজনদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ইসিজির মাধ্যমে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, রোগীর মৃত্যু সনদ চাইলে চিকিৎসক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেন। এতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ফয়সালের দাবি, একপর্যায়ে রোগীর ভগ্নিপতি মো. মেহেদিকে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে অন্য স্বজনরা হাসপাতালে এলে কর্মচারীরা সরে যান। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান এবং তাকে মারধর করেন।
হাসপাতালের কর্মকর্তা মো. কাওছার হোসেন বললেন, ‘রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসকের কক্ষে হামলা চালায়। এ সময় চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
বরিশাল মহানগরের কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান জানালেন, হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।




