গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ, রাজধানী ও চট্টগ্রামে শিশুসহ দগ্ধ ১২

সংগৃহীত ছবি
ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে রাজধানী ও চট্টগ্রামে চার শিশুসহ ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। ঘটনাদুটি সোমবার ভোরের। দগ্ধ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রথম ঘটনাটি রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকার। ১৪৭ নম্বর জাহানারা ভিলার নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন শেখ নোমান। সোমবার ভোর ৪টার দিকে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয় তাদের ঘরে।
দগ্ধ হন নোমান, তার স্ত্রী পিংকী আক্তার, তাদের ৩ বছরের ছেলে রোহান ও পিংকীর ভাই অপু। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাদের নেয়া হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানালেন, নোমানের দেহের ৭০ শতাংশ দগ্ধ, পিংকি আক্তার ৭৫ শতাংশ, ছেলে রোহান ৩৫ শতাংশ ও অপুর ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণ থেকে লাগে আগুন। এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা বলে জানিয়েছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
এতে দগ্ধ হন ওই ফ্ল্যাটে থাকা মো. সাখাওয়াত, তার ছেলে ১৭ বছরের শাওন, ৭ বছরের আনাস ও ৯ বছরের আইমান, সাখাওয়াতের ভাই মো. সুমন ও স্ত্রী পাখি বেগম, তাদের ৪ বছরের মেয়ে আয়েশা এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই মো. শিপন।
তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানায়, ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর আসে। দুটি ইউনিট গিয়ে ৫টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা এর আগেই দগ্ধদের হাসপাতালে নেয়।
চুলার গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের।
দগ্ধদের স্বজন পরিচয়ে মকবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, ওই ফ্ল্যাটে দুই ভাই পরিবার নিয়ে থাকেন। আরেক ভাই সম্প্রতি বিদেশ থেকে এসে পরিবার নিয়ে সেখানে উঠেছেন।
হালিমা মঞ্জিলের সামনের ভবনের বাসিন্দা নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া বলেন, ‛হঠাৎ বিকট শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। বেলকনিতে গিয়ে দেখি, ওই বাসার ভেতরে আগুন জ্বলছে। ভেতর থেকে কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। তখন শত, শত লোক জমে যায় নিচে। পুরো ভবনের লোকজন নিচে আসে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে। ৭-৮ জনকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখি।’
হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‛বিস্ফোরণে তৃতীয় তলার বাসাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুরো ভবনে ১০-১২টি ফ্ল্যাটের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দরজা, জানালার কাচ, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

