এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আইনের শাসনের একটি মৌলিক নীতি হলো— অভিযোগ হতে হবে সত্যনিষ্ঠ, আর বিচার হবে প্রমাণের ভিত্তিতে; কিন্তু যখন কোনো মামলায় এমন ব্যক্তির নাম আসামির তালিকায় দেখা যায়, যিনি বহু আগেই মারা গেছেন, তখন সেটি শুধু একটি আইনি ভুলের বিষয় থাকে না; এটি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে এবং এখানেই মূল উদ্বেগ। একটি মামলা শুধু আদালতে জমা দেওয়া কাগজ নয়; এটি একজন নাগরিকের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ। সেই অভিযোগে যদি মৃত ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়, তাহলে সেটি শুধু তথ্যের বিকৃতি নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রবণতারও ইঙ্গিত বহন করে।
বরিশালে দায়ের হওয়া একটি মামলায় চারজন মৃত আওয়ামী লীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনায় সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। মামলা দায়েরের অনেক আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন তারা। তাই এটি নিছক অসাবধানতার ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কারণ একজন বাদীর নিজের অভিযোগ সম্পর্কে ন্যূনতম দায়িত্বশীল হওয়ার কথা। তিনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন, তারা আদৌ জীবিত কি না, এটি যাচাই করার দায়ও তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১০ জুন তারা নগরীতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে মিছিল করেছেন এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করেছেন।
মামলাটি করেছেন মারজুক আব্দুল্লাহ নামে এক যুবক।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় মামলা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়। ফলে প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করার চেয়ে দীর্ঘ আসামির তালিকা তৈরির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সেই সংস্কৃতির কারণেই কখনো নির্দোষ ব্যক্তি, কখনো ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত মানুষ, এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও মামলায় চলে আসে। এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করা গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় আইনের মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা।
এবং শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি আদালতকে নয়, আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবেককেই করা উচিত— আমরা কি আইনকে সত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাই, নাকি প্রতিপক্ষকে হয়রানির অস্ত্র হিসেবে? এই প্রশ্নের সৎ উত্তরই নির্ধারণ করবে, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে, নাকি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে।




