কণিকা
পারিবারিক বইপ্রেম ভেঙে দিল পূর্বধারণা

শৈশবে এশীয় বংশোদ্ভূত কাউকে ব্রিটেনের লেখক হিসেবে দেখতে অভ্যস্ত ছিল না সেখানকার সমাজ। অথচ শর্পশায়ারের ওয়েলিংটন থেকে উঠে আসা নাদিয়া শিরিন সেই ধারণা ভেঙে পেঙ্গুইন থেকে একের পর এক ছবির বই প্রকাশ করেছেন। তার মনে হয়, পরিবারের বইপ্রেমই তাকে সাহস দিয়েছে। আশির দশকে বেড়ে ওঠা নাদিয়া বলেছেন, ‘লেখক মানে তখন আমার মা-বাবার মতো মানুষ ছিল না। দক্ষিণ এশীয় হলে পড়াশোনা করে ডাক্তার, ল ইয়ার বা অ্যাকাউন্ট্যান্ট হওয়ার পরামর্শই মিলত।’ কিন্তু ছোটবেলা থেকেই পড়ার অভ্যাস তার জীবন বদলে দেয়। প্রতি সপ্তাহে মা তাকে ওয়েলিংটন লাইব্রেরিতে নিয়ে যেতেন; মা আগাথা ক্রিস্টি নিতেন আর তিনি শিশুতোষ বইয়ের তাকে ডুবে থাকতেন। ছোটবেলায় নিজেই ম্যাগাজিন-কমিক বানাতেন নাদিয়া। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ে, দশ বছর একটি ম্যাগাজিনের প্রকাশনীতে কাজ করেও আঁকা ও ডুডলিংয়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে ছাড়েনি। ২০০৭ সালে কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশুতোষ বই অলংকরণে এমএতে ভর্তি হন। তার গ্র্যাজুয়েশন শোয়ের ছবির বই প্রকাশকদের নজর কাড়ে। অভিষেক বই ‘গুড লিটল উলফ’ প্রশংসা ও পুরস্কার পায়; পরে রোআল্ড ডাল ফানি প্রাইজ ও ওয়াটারস্টোনস শিশুবই পুরস্কারের তালিকায় নাম ওঠে। ত্রিশের পরে প্রথম বই প্রকাশ করা নাদিয়া জানালেন, তিনি ভাগ্যবান। এখন ঘরে বসে পশুদের নিয়ে মজার গল্প লেখেন, ছবি আঁকেন, বইয়ের মলাটে নিজের নাম দেখেন এবং পাঠকের সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা করেন। তার আফসোস, শৈশবে তার মতো শিশুদের সৃজনশীল স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দেওয়া হতো না; লেখকদের মধ্যেও বাদামি কেউ ছিল না!
বিবিসি আর্টস অবলম্বনে মাসুম বায়েজীদ



