প্রিয় ৫ বই
- ইসলাম (অ্যা নিউ হিস্টরি ফ্রম মুহাম্মদ টু প্রেজেন্ট)— জন ত্যোলান
- হারুন অ্যান্ড দ্য সি অব স্টোরিস— সালমান রুশদি
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান— আবু জাফর শামসুদ্দীন
- ডায়রিজ অব ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইয়ুব খান (১৯৬৬-১৯৭২)
- ইউলিসিস, ক্যাপিটালিজম অ্যান্ড কলোনিয়ালিজম— রিডিং জয়েস আফটার দ্য কোল্ড ওয়ার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রিয় বই বারবার বদলায়। মনে হয় সারা জীবন ৭৫০ বার তালিকা বদলেছে। এখন যে বইগুলো ওল্টাচ্ছি, তা তালিকায় দেখা যাচ্ছে।
জন টোলানের ‘ইসলাম’ বইটা বেশ সাম্প্রতিক। ইসলাম কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে। একটা নৈর্ব্যক্তিক অ্যাকাডেমিক চিন্তা পদ্ধতি। প্রধান তিনটি ভাগের পার্ট-১-এ ফাউন্ডেশন, পার্ট-২ এক্সপানশন, পার্ট-৩ মর্ডানিটিজ। পার্ট-৩-এ ইসলামের রাজনৈতিক সত্তা এবং সমকালীন প্রধান ট্রেন্ড নিয়ে গুছিয়ে বলা।
রুশদির এ বইটা সম্পর্কে জানা ছিল না। তাই পড়ছি। হিন্দুস্তানি ১২টি শব্দ নিয়ে খেলাধুলা রুশদীয় কায়দায়। ফ্যান্টাসির নানান রকম মজা প্রধানত।
নানা কারণে আবু জাফর শামসুদ্দীন আমার আগ্রহের লেখক। ভাওয়াল গড় নিয়ে চমৎকার ব্যাপার রয়েছে বইটিতে। ভাওয়াল নিয়ে রয়েছে আমার বিশেষ কৌতূহল, তাই দ্বিতীয়বার পড়ছি। সেই সময়ের চরিত্ররা চোখের সামনে ভাওয়ালে ঘুরেফিরে যাচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগে।
ষাট থেকে সত্তর দশকের অনেক কিছুই আইয়ুব খান নিজে করেছেন বা দেখেছেন। তার ডায়েরি আগ্রহ নিয়েই পড়ছি। বইয়ের একটা ভুক্তি আগামীর সময়ের পাঠকদের জন্য দিই— ‘৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ মঙ্গলবার। কনফুসিয়াস (আসল নাম কুং ফু-ৎজু) রাজনীতিবিদদের নিম্নরূপ পরামর্শ দিতে পছন্দ করতেন: ক. সাধারণ জনতাকে দয়া, ন্যায়বিচার ও পিতৃতান্ত্রিকতার সাথে পরিচালনা করা উচিত— সুবর্ণ নীতি। খ. সতর্ক ব্যক্তিরা কদাচিৎ ভুল করেন। গ. ঘাস যেমন বাতাসের সামনে ঠিক ততটাই নিশ্চিতভাবে নুয়ে পড়ে, যতটা নিশ্চিতভাবে জনসাধারণ তাদের ঊর্ধ্বতনদের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে। ঘ. সরলকে মহিমান্বিত করো, অসৎকে বর্জন করো, জনগণ অনুগত থাকবে।’ ভাবা যায়, আইয়ুব খানের মনের মধ্যে কীসব খেলা করত!
৫ নম্বর বইটা হলো জেমস জয়েসের বই ‘ইউলিসিস’ কীভাবে পড়তে হবে বর্তমানে দাঁড়িয়ে তার নোক্তা। জয়েস কি পোস্টকলোনিয়াল লেখক হয়ে উঠেছিলেন? সাধারণ ব্লুমকে প্রধান চরিত্র করেছেন, কিন্তু সে তো সত্যিকারের প্রলেতারিয়ান নয়। সে তো উপনিবেশ-উত্তর পৃথিবীকে রূপায়িত করেনি। এরকম নানান তর্কবিতর্ক নিয়ে বই। পাঠের মতো আনন্দ এখন আর কিছুতে আছে বলে আর মনে হয় না।






