Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সামাদ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় কাজললেখা

ঘুমন্ত শহরে জেগে থাকে স্বপ্নেরা

মোজাফ্‌ফর হোসেন
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০
ঘুমন্ত শহরে জেগে থাকে স্বপ্নেরা

অলংকরণ ফারজিন

ঘুম ভাঙে না সাতাশ মাস হলো। দুই বছর, তিন মাস। না, মরেনি; বেঁচে আছে। ঘুমটা ভাঙেনি। ঘুমের মধ্যে বেঁচে আছে শহরের সব মানুষ। এ মানুষগুলোর মধ্যে গল্পের ইরা এবং অন্যরাও আছে। আসিফ নামের সেই ছেলেটিও আছে, যে কি না হিসাব করে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমাত। ঘুমের জন্য পৃথিবী না, এজন্য অনন্ত ঘুম পড়ে আছে। পৃথিবী হলো বেঁচে থাকার। ঘুমিয়ে, ঘুমের মধ্যে বেঁচে থাকা যায় না। বন্ধুমহলে এ কথাগুলো প্রচার করে বেড়ানো সেই আসিফও ঘুমিয়ে আছে টানা ৬৪৮ ঘণ্টা। এখনো ঘুমিয়ে। একটু আগেই সে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলেছে, ‘এ জাতিকে জাগাতে হবে। ঘুমিয়ে পড়েছে পুরো জাতি। এই অনগ্রসর অকর্মা জাতি নিয়ে একটা দ্যাশ এগোতে পারে না।’

ওর কথা শুনে সামনে বসা ইরা ও বন্ধুরা তালি দিয়েছে। ইরা ঘুমাচ্ছে শহরের দক্ষিণের এক আড়াইতলা বাড়ির ছাদের ঘরটিতে। আসিফ উত্তরে বস্তির পাশে হঠাৎ কলাগাছের মতো ফুঁড়ে ওঠা তালগাছের মতো লকলকে একটা বহুতল ভবনের নিচতলায়। কিন্তু একটু আগেই ওরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় বসেছিল একসঙ্গে। সঙ্গে আরও কয়েকজন সহপাঠী। সহপাঠীদের নামগুলো ভালো করে দেখতে গেলে ওলটপালট হয়ে যায়। আসিফ দেখে ইরার সঙ্গে বসে আছে ওর বাবা, কিন্তু বয়সে ওদেরই সমান। গ্রামের কয়েকজন বন্ধুকেও দেখে, স্কুল-ড্রপআউট বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় আসিফের বক্তৃতা শুনছে। পায়ে এঁটেল মাটির জমাটবাঁধা কাদা, গায়ে জাগ দেওয়া পাটের গন্ধ। স্বপ্নে এ শহরের মানুষের জীবন এমনই এলোমেলো। কদিন আগে শহরের সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে বড়োসড়ো একটা ক্যাম্প ও নিয়ন্ত্রণ সেল বসালে আসিফ হাংগার স্ট্রাইকে বসেছিল কলাভবনের সামনে। আসিফের দেখাদেখি আরও কয়েকজন বন্ধু ও শিক্ষক বসেছিল ওর সঙ্গে। হঠাৎ একদিন দেখে পেছনে কাজী নজরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে, মুখভর্তি দাড়ি, ভালো করলে দেখলে মনে হয় রবিঠাকুর। ঠিক বইয়ে যেমনটি দেখেছে হুবহু, শুধু গায়ের রঙ যতটা শ্যামবর্ণ ভেবেছিল ততটা না, উজ্জ্বলই। বন্ধুরা স্ট্রাইক ছেড়ে সেলফি তুলতে লেগে গেল। সেনাবাহিনীও যোগ দিল। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুলের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে সেনাসদস্যদের ইউনিফর্ম গেল বদলে। ট্যাংকগুলো এমনভাবে পড়ে আছে যেন শত বছর আগে পরিত্যক্ত। সবুজ লতাপাতা পাকড়ে ধরেছে শক্ত স্টিয়ারিং। পাখি বেঁধেছে বাসা সেনাপ্রধানের হেলমেটের ভেতর। আসিফ বুঝতে পারে, যা হচ্ছে সেটাই হওয়া উচিত; কিন্তু যেভাবে হচ্ছে সেভাবে না। এভাবে হলে সে কোনোদিনই ইতিহাসের নায়ক হতে পারবে না। মানুষ তার স্বপ্নে না, বাস্তবের পৃথিবীতে নায়ক হতে চায়। কিন্তু সে বুঝতে পারে, তার জগৎটা আটকে গেছে স্বপ্নের মধ্যে। সে আর বের হতে পারছে না। মানুষ বাস্তবের পৃথিবী থেকে মাঝেমধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেমন স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করে, আসিফ তেমন স্বপ্নের জগৎ ছেড়ে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাস্তব পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে। এই ঘুমন্ত শহরের অন্য বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও তেমনটি হওয়ার কথা। আসিফ একটু আগে একটা দুঃস্বপ্ন দেখার মতো দুঃবাস্তব দেখেছে, দেখেছে যে নেতার আদর্শিক বিপ্লবী কথা শুনে শহরের সবাই বাড়ি ছেড়ে পথে নেমেছিল, সেই নেতা আসলে মানুষ ছিল না, ফেরেশতাও না, কথা শুনে ফেরেশতাই মনে হয়েছিল, কিন্তু পথের শেষ মাথায় এসে দেখা গেল সাক্ষাৎ শয়তান, রীতিমতো শয়তানের ওস্তাদ। কিন্তু ততক্ষণে শহরবাসীর সব পথ হাঁটা হয়ে গেছে, ফেরার শক্তি সব ক্ষয় হয়ে গেছে। এক সমুদ্র হতাশার মধ্যে ডুবে গেছে পুরো জাতি। পেছনে তাকাতেই বাস্তবতা কেটে যায় আসিফের। ঘুমের মধ্যে আসিফ বুঝতে পারে, যা দেখেছে সেটা দুঃবাস্তব। এখনো সব সম্ভাবনা মরে যায়নি। কিন্তু সমস্যা হলো শহর ঘুমিয়ে পড়েছে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে, দিবাস্বপ্নে পুরো শক্তি ব্যয় করে লোকজন সব ঘুমিয়ে গেছে। জাগাতে হবে, কিন্তু জাগাবে কে? আসিফ নিজেও তো ঘুমিয়ে। জাগ্রত মানুষ যদি একজনও না থাকে, কে উদ্যোগটা নেবে? এখন ঘুমের মধ্যেই ঘুমন্ত মানুষগুলোকে জাগাতে হবে, সবার স্বপ্ন এক করতে হবে। তারপর স্বপ্নের মধ্যে বিপ্লবী করে তুলতে হবে তাদের। আসিফ এপাশ থেকে ওপাশ ফিরে শোয়। বিপ্লবে আর শহরের মানুষের আস্থা নেই। স্বপ্নেও মানুষ আর বিপ্লবের কথায় উজ্জীবিত হয় না। বিপ্লবী আসিফ পড়ে থাকে ঘুমন্ত।

ঘুমের মধ্যে পড়ে থাকে ইরাও, শহরের সবচেয়ে সুন্দর মনের মেয়েটা। ইরা গোসল সেরে নতুন একটা শাড়ি পরেছিল বের হবে বলে; কিন্তু বের হওয়ার আগে কেন কখন সে শুয়ে পড়েছে, জানে না। সেই যে ঘুমিয়ে গেছে, সেই ঘুম আর ভাঙেনি। কথা ছিল ক্যাম্পাসে বান্ধবী সাজেদা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চেয়ে ভিসির ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসবে। ধর্ষক বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে; না, ছাত্র নয়; শিক্ষক। ওর ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র অধ্যাপক। দলবদ্ধ ধর্ষণ। সঙ্গে আর কারা ছিল জানা যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানার সুযোগ দেয়নি। জানার আগেই ঘুমিয়ে পড়ল শহর। এখন ঘুমের মধ্যে সাজেদা হত্যার বিচার চাইতে পারে ইরা। কিন্তু নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত, থানা-পুলিশ কেউই তো জেগে নেই; কার কাছে চাইবে বিচার?

আসিফ চেষ্টা করে। ইরাও কম চেষ্টা করে না। কিন্তু কোটি কোটি ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে তারা বুঝতে পারে না, তাদের সঙ্গে কারও কোনো সংযোগ কেন তৈরি হয় না। শহরের মানুষগুলো ঘুমিয়ে পড়ার আগে যে মেয়েটা ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে, নিজেও ধর্ষণের শিকার হয়ে ভেসে উঠেছে হাতিরঝিলের নোংরা জলে সেই মেয়েটা যে ঘুমন্ত মানুষের মাঝে ঘুমিয়ে থাকলেও বেঁচে নেই, তা হয়তো সে বুঝতে পারে না

শহরের সব মানুষ যখন ঘুমিয়ে আছে, ঘুমের মধ্যে জনমত তৈরি করে ঘুমের মধ্যেই সাজা নিশ্চিত করা যায় কীভাবে– ভাবতে থাকে ইরা। যেদিন সে ঘুিময়ে পড়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গে পুরো দেশ, সেদিনও দেশে সাতচল্লিশজন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘুমের মধ্যে ঘুমন্ত নারী কিংবা শিশুকে ঘুমন্ত পুরুষ ধর্ষণ করতে পারে কি না, ইরা জানে না। না পারলে ঘুমের পৃথিবী অন্তত নারীদের জন্য নিরাপদ। এই ভেবে তাও কিছুটা স্বস্তি পায় সে।

আরও একটা কারণে স্বস্তি পায় সে। ঘুমিয়ে পড়ার পরই আসিফকে দেখেছে ইরা। ক্যাম্পাসে থাকতে আসিফকে তার চোখে পড়েনি। ওকে দেখার জন্য হলেও মুহূর্তের জন্য জেগে উঠতে চায় সে। ওর ভয় হয় ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর যদি দেখে সবটা স্বপ্ন, আসিফ বলে আসলে কেউ নেই। তার চেয়ে বড় ভয়, সত্যিই যদি থাকে, অন্য নামে, অন্য কোথাও। হতে পারে স্বপ্নে যাকে দেখছে সে এ শহরের কেউ না। এটা ভেবে জেগে উঠতে চায় ইরা। আবার যদি আসিফ অন্য সময়ের কেউ হয়, অতীতের কোনো বিপ্লবী তরুণ, যে হয়তো আর বেঁচে নেই কিংবা যার জন্ম হবে ভবিষ্যতের কোনো সময়। তাই যদি হয়, ইরা এই ঘুম থেকে আর উঠতে চায় না। যে জীবনে আসিফ থাকবে না, সে জীবনে আর ও ফিরতে চায় না। এটা ভেবে ইরা আঁতকে ওঠে, তার মনে হয়, তার মতো সবাই যদি এমন কোনো না কোনো কারণে ঘুমের দুনিয়াকে মেনে নিতে শুরু করে, অভ্যস্ততা পেয়ে বসে, তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। দেশের মানুষ আর কখনো কোনোদিন জেগে উঠবে না। ঘুমের মধ্যে জন্ম হবে নতুন শিশুর, ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হবে তরুণ কিংবা প্রবীণদের।

এ ভয়টা আসিফেরও। আসিফ এবং ইরা কেউ কারও সঙ্গে সেই ভয়ের কথাটা শেয়ার করতে পারে না। ঘুমের মধ্যে চিন্তা করা যায় কিন্তু সংগঠন করা যায় না। শহরের সবাই এখন একক চিন্তার মানুষ। চিন্তাগুলো আর মেলে না কারও সঙ্গে কারও। সবাই সন্দেহ করতে থাকে পরস্পরকে। হয়তো একজন জেগে উঠলে সবাইকে জাগিয়ে তুলতে পারবে। হয়তো সবাই মিলে চেষ্টা করলে একজনকে জাগিয়ে তুলতে পারবে। কিন্তু সেই একজন যদি জেগে ওঠে আর কাউকে জাগিয়ে না তোলে! কিংবা সে যদি সবাইকে না জাগিয়ে শুধু নিজের পরিবার, নিজের ধর্ম বা গোত্রের মানুষকেই জাগিয়ে তোলে! এই শঙ্কায় কেউ আর কাউকে জাগাতে উদ্যোগ নেয় না। কেউ এগিয়ে আসে না কারও জন্য।

আসিফ চেষ্টা করে। ইরাও কম চেষ্টা করে না। কিন্তু কোটি কোটি ঘুমন্ত মানুষের মধ্যে তারা বুঝতে পারে না, তাদের সঙ্গে কারও কোনো সংযোগ েকন তৈরি হয় না। শহরের মানুষগুলো ঘুমিয়ে পড়ার আগে যে মেয়েটা ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজেও ধর্ষণের শিকার হয়ে ভেসে উঠেছে হাতিরঝিলের নোংরা জলে, সেই মেয়েটা যে ঘুমন্ত মানুষের মাঝে ঘুমিয়ে থাকলেও বেঁচে নেই, তা হয়তো সে বুঝতে পারে না। যে ছেলেটা সেই মেয়েটার জন্য বিচার চাইতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে কোনো এক প্রকাশ্য দুপুরে, সেটাও হয়তো তার আর মনে নেই। দুজন মানুষই শুধু চেষ্টা করছে এ ঘুমন্ত শহরকে জাগাতে, দুজনই মৃত। কী নির্মম পরিহাস! এ এমনই এক শহর যেখানে ঘুমন্ত মানুষকে জাগাতে মরিয়া মৃতরা। যেখানে মৃতরা শহরের ঘুমন্ত মানুষের চেয়ে সক্রিয়।

ইরা হাসে দূর থেকে।

আসিফও হাসে অনন্ত ঘুমের মাঝে।

কিন্তু ঘুমন্ত শহরের মানুষ আর কারও হাসিমুখ দেখতে পায় না।

সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।

সাতাশঘুমন্তড্রপআউটইউনিফর্মশয়তান
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise