ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ভাইরাল জ্বর, কখন সাবধান হওয়া জরুরি?

সংগৃহীত ছবি
শীত চলে গেল, গরম পড়াও শুরু হলো। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে বাংলাদেশে এখন ঘরে ঘরে বাড়ছে ভাইরাল জ্বর। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার যে ওঠানামা হয়, তা ভাইরাস ছড়ানোর জন্য খুব অনুকূল। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই জ্বর কয়েকদিনেই সেরে যায়, কিন্তু কিছু লক্ষণ দেখা দিলে মোটেও অবহেলা করা উচিত নয়।
দিল্লি ম্যাক্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মীনাক্ষী জৈন জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা রাইনোভাইরাসের কারণে এই জ্বর হয়। সাধারণত হঠাৎ করে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, ক্লান্তি এবং সর্দি-কাশি এই জ্বরের মূল লক্ষণ। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ২-৩ দিনের মাথায় রোগটি বেশি কষ্ট দেয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থতা আসে।
অধিকাংশ ভাইরাল জ্বর সাধারণ হলেও নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে:
* জ্বর যদি ১০৩ ডিগ্রির উপরে উঠে যায় এবং ৩ দিনেও না কমে।
* প্যারাসিটামল খেয়েও যদি জ্বর নিয়ন্ত্রণে না আসে।
* প্রবল শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে।
* অঝোরে বমি হওয়া বা পানিশূন্যতা (যেমন: মুখ শুকিয়ে যাওয়া) দেখা দিলে।
* শরীরে দানা বা র্যাশ ওঠা এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।
* ছোট শিশু যদি ঝিমিয়ে পড়ে বা একদমই খেতে না চায়।
চিকিৎসকদের মতে, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র পানিশূন্যতা অনেক সময় নিউমোনিয়ার মতো বড় সমস্যার দিকে মোড় নিতে পারে।
সাধারণত এই জ্বর এর জন্য ঘরোয়া চিকিৎসা ও সেবা খুব বেশি প্রচলিত। তাই ভাইরাল জ্বর হলে এই বিষয় গুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি:
প্রচুর তরল খাবার
জ্বরের সময় শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়, তাই প্রচুর জল, ফলের রস এবং ডাব বা ওরস্যালাইন খেতে হবে।
বিশ্রাম ও খাবার
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং সহজে হজম হয় এমন পুষ্টিকর খাবার খান।
গা মোছানো
খুব বেশি জ্বর হলে হালকা গরম জল বা সাধারণ জল দিয়ে পুরো শরীর বারবার মুছে দিন।
আলাদা থাকা
যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা থাকা এবং নিজের ব্যবহারের জিনিস আলাদা রাখা ভালো।
ভাইরাল জ্বর থেকে বাঁচতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং ভিটামিন-সি জাতীয় ফল (যেমন: লেবু, কমলা) খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া যারা আগে থেকেই অন্য রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া নিরাপদ।
মনে রাখবেন, সাধারণ সচেতনতাই পারে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই মৌসুমি রোগ থেকে দূরে রাখতে।

