কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ: আপনি কতটা জানেন?

সংগৃহীত ছবি
অত্যাধুনিক কম্পিউটারের যুগে ঘরে ঘরে কম্পিউটার এসে গেছে, অনলাইন কাজ থেকে ডাটা এন্ট্রি সবই হচ্ছে কম্পিউটার নামের এই যন্ত্রটির মাধ্যমে, আধুনিক কম্পিউটারের এই চেহারা কিন্তু একদিনে আসেনি, যুগ যুগ ধরে বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে এই যন্ত্র।
কম্পিউটার যন্ত্রাংশ সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সবাই এগুলোর নাম জানি । কিন্তু আমরা কি জানি কোনটির কী কাজ ? কম্পিউটারের যন্ত্রাংশের কোনটা কীভাবে এল, কিংবা কোন যন্ত্রাংশের কাজ কী?
কম্পিউটিং জগতের অগ্রগতি ও প্রযুক্তির বিবর্তন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। একদিকে আমরা পেয়ে গেছি অত্যাধুনিক প্রসেসর, উন্নত অপারেটিং সিস্টেম ও শক্তিশালী হার্ডওয়্যার, অন্যদিকে স্মৃতির জন্য বহুমুখী ডিভাইস ও গেমিং কনসোল আমাদের বিনোদনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ছবিতে উপরের সারিতে প্রথম ছবিটি ঐতিহাসিক জন ভন নিউম্যানের, যিনি আধুনিক কম্পিউটারের পিতামহ হিসেবে পরিচিত। তার নীতিমালা এবং ডিজাইন আজকের ডিজিটাল যুগের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। মাঝখানে রয়েছে আধুনিক Intel Core প্রসেসর, যা কম্পিউটারের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করে এবং গতিশীলতা ও দক্ষতা প্রদান করে। একই সারিতে ডানদিকে দেখা যাচ্ছে লিনাক্সের লোগো, একটি মুক্ত ও ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যা সার্ভার, ডেভেলপমেন্ট এবং ডেক্সটপ ব্যবহারে ব্যাপক জনপ্রিয়।
দ্বিতীয় সারিতে বাম থেকে ডিভাইসগুলো হল: USB ফ্ল্যাশ ড্রাইভ — যা তথ্য সংরক্ষণের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি পোর্টেবল স্টোরেজ ডিভাইস; তার পাশের ছবি দুটি RAM মডিউল, যা কম্পিউটারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়; এরপর গ্রাফিক্স কার্ড, যা গেমিং ও গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ের জন্য অত্যাবশ্যক; এবং ডানদিকে রয়েছে একটি গেমিং কনসোল ও কন্ট্রোলার, যা আধুনিক গেমিং জগতের মুখ।
সবশেষে নিচের সারিতে রয়েছে: একটি কম্পিউটার মনিটর, বিভিন্ন প্রকারের ফ্লপি ডিস্ক—পুরোনো সময়ের তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যম, এবং একটি প্রাচীন কম্পিউটার সিস্টেম, যা আজকের আধুনিক যন্ত্রের পূর্বসূরী।
এই সব প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম আমাদের দেখায় কিভাবে কম্পিউটিংয়ের ইতিহাস শুরু থেকে আধুনিক যুগে প্রবাহিত হয়েছে এবং কিভাবে প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ ও আনন্দময় করে তুলেছে।
কম্পিউটারের জন্ম কিন্তু কিছু বছর আগে নয়, কয়েক হাজার বছর আগে হয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় তিন হাজার বছর আগে চীন গণনার জন্য ব্যবহৃত হত এ্যাবাকাস(Abacus)। এই Abacus থেকেই আধুনিক ক্যালকুলেটর তৈরীর ধারণা এসেছে বলে মনে করা হয়। কয়েকটি বিডস অর্থাৎ গোলচাকতির মাধ্যমে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে গণনার কাজ করা হতো। প্রাচীন যুগের Abacus থেকে কম্পিউটারের প্রথম চিন্তার সূত্রপাত।

