বাউনিয়াবাদ বস্তির উচ্ছেদ অভিযানকে পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা সাজিয়ে অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হচ্ছে—এমন একটি সংবেদনশীল দাবি সহকারে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উচ্ছেদের শিকার সাধারণ মানুষের কান্নাকাটির দৃশ্য সংবলিত ভিডিওটি শেয়ার করে দুই দেশের সীমান্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবির কোনো সত্যতা নেই। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি বস্তিতে সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের দৃশ্য।
প্রেক্ষাপট ও ভাইরাল দাবি
সম্প্রতি এক্সে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে—পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি বসতির ওপর উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে এবং এই সমস্ত বসতি বন বিভাগ এবং সরকারি জমিতে অবস্থিত ছিল। এই দাবির সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে নেটিজেনরা বলছেন, “ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে লক্ষ্য করুন, একজন লোক বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি পরে দাঁড়িয়ে আছে।” ভিডিওটিতে উচ্ছেদ অভিযানের চাক্ষুষ দৃশ্য থাকায় অনেকেই একে সত্য মনে করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছেন, যার ফলে দুই দেশের সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধান ও সত্যতা যাচাই
ভিডিওটির সত্যতা এবং প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করতে টুলসের সাহায্যে অনুসন্ধান চালানো হয়। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে ‘সবার কণ্ঠ’ নামের একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে গত ২০ মে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘উচ্ছেদ অভিযানে ঘর ভেঙে দেওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়লেন পুরো পরিবার!!’ ক্যাপশনে প্রকাশিত ওই ভিডিওর দৃশ্য ও চরিত্রের সাথে ভাইরাল হওয়া ক্লিপটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
একই ঘটনার আরও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি লাইভ ভিডিওতে। “বাউনিয়াবাদ বস্তিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে” শিরোনামে প্রচারিত ওই লাইভ ফুটেজটি বিশ্লেষণ করে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের স্পষ্ট উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও আসল ঘটনা
প্রকৃত ঘটনাটি জানতে অনুসন্ধান করা হলে ‘প্রথম আলো’-র ২০ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে ঢাকার পল্লবীর কালশী এলাকার বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে সরকারি জমি উদ্ধারে একটি বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল পল্লবী থানা-পুলিশ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পিওএম-এর সদস্যরা। দেশের অন্যান্য মূলধারার গণমাধ্যমেও এই উচ্ছেদ অভিযানের খবর ও ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।
সামগ্রিক তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিওর উৎস বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়া বাঁধ বস্তিতে সরকারি জমি অবমুক্তকরণে পরিচালিত একটি বৈধ উচ্ছেদ অভিযানের ভিডিওকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাজানো হয়েছে। ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে’—এমন দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব।








