আগামীর সময়

হানজালার নির্বাচন-পরবর্তী মাদক অভিযানের দাবি বিভ্রান্তিকর, ভিডিও ২০২৪ সালের

হানজালার নির্বাচন-পরবর্তী মাদক অভিযানের দাবি বিভ্রান্তিকর, ভিডিও ২০২৪ সালের

ছবিঃ আগামীর সময়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তিকে পেটানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর মাদারীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হানজালা মাদক নির্মূল ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন। একই ভিডিও থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র ব্যবহার করেও অনুরূপ দাবি প্রচার করা হচ্ছে।


তবে যাচাই করে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক বা নির্বাচনের পরের কোনো ঘটনার নয়। এটি ২০২৪ সালের একটি ঘটনার ভিডিও।


প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়, যা ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২২ আগস্ট বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় মাদক কিনতে আসার অভিযোগে একই উপজেলার চরশ্যামাইল গ্রামের শামসুল মোল্লার ছেলে শহিদুল ইসলামকে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি জানানো হয় পীরজাদা আলহাজ হাফেজ মাওলানা মো. মোহসেন ও পীরজাদা হাফেজ মাওলানা হানজালাকে।


এরপর শহিদুল ইসলামকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঠি ও জুতা দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে ওই দুই পীরজাদার বিরুদ্ধে। একই দিন সন্ধ্যায় আরও তিন যুবককে মাদক কিনতে এসেছে অভিযোগে আটক করে একই ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।


চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত স্থিরচিত্রের সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির একটি ফ্রেমের মিল পাওয়া যায়, যা নিশ্চিত করে যে ভিডিওটি ওই ২০২৪ সালের ঘটনারই অংশ।


উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে হানজালা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এবং ভাইরাল ভিডিওতে নির্যাতনকারীদের একজন হিসেবে তাকে দেখা গেলেও, ভিডিওটি নির্বাচনে জয়লাভের পর পরিচালিত কোনো অভিযানের নয়। বরং এটি ২০২৪ সালের পূর্বের একটি ঘটনার ভিডিও, যা নতুন দাবি যুক্ত করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

    শেয়ার করুন: