Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
নিজ খরচে ফলক পরিষ্কার করেন সোহেল
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিশ্ব চলচ্চিত্র

ট্রেনের কামরায় বন্দি সিনেমার গল্প

দৃষ্টি দিজা
agamir somoy
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ২১:০৯
ট্রেনের কামরায় বন্দি সিনেমার গল্প

'বুলেট ট্রেন' সিনেমার একটি অ্যাকশন দৃশ্যে ব্র্যাড পিট

চলচ্চিত্র কিংবা সাহিত্য ইতিহাসের জন্মলগ্ন থেকেই বইয়ের পৃষ্ঠা আর সিনেমার রূপালী পর্দার সঙ্গে চলন্ত ট্রেনের রয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য ও রোমাঞ্চকর সম্পর্ক। শিল্পীর ক্যানভাসের স্টিল লাইফ, ইম্প্রেশনিজম কিংবা পোর্ট্রেটে উঠে এসেছে ট্রেনের ইন্টেরিয়র।
কিন্তু সিনেমার সঙ্গে ফ্রেম না প্রপ হিসেবে ট্রেনের সম্পর্ক যেন একটু বেশিই ওতপ্রত। বলা যায়, সিনেমার বয়স আর ট্রেনের পর্দার আবির্ভাবের বয়স প্রায় সমান্তরাল। ১৮৯৫ সালে লুমিয়ের ব্রাদার্সের হাত ধরে যখন সিনেমাটোগ্রাফি তথা চলচ্চিত্রের প্রথম উন্মেষ ঘটে, তখন তাদের নির্মিত ইতিহাসের অন্যতম কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রর একটি ছিল ট্রেন নিয়ে।'অ্যারাইভাল অব আ ট্রেন অ্যাট লা সিওতা'। সেই নির্বাক যুগে চলন্ত ট্রেনের স্ক্রিনের দিকে ধেয়ে আসার দৃশ্য দেখে প্রেক্ষাগৃহের দর্শকেরা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, তারা ভেবেছিলেন আস্ত একটি জ্যান্ত ট্রেন বুঝি পর্দা ফুঁড়ে তাদের গায়ের ওপর এসে পড়বে।

সিনেমার এই শুরুর পর থেকেই ট্রেন আর কেবল যাতায়াতের মাধ্যম রইল না, বরং তা হয়ে উঠল সেলুলয়েডের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্লট ডিভাইস। চলচ্চিত্র তাত্ত্বিক ও সিনেমা পরিচালকদের কাছে ট্রেনের গতি, লাইনের সমান্তরাল ছন্দ এবং এর আবদ্ধ বগিগুলো মানুষের জীবনযাত্রা, মনস্তত্ত্ব ও সমাজ বাস্তবতার এক নিখুঁত রূপক হিসেবে ধরা দেয় দর্শকের কাছে। ট্রেনের এই গতিশীল কিন্তু একই সাথে অবরুদ্ধ পরিবেশটি ট্রেনের ভেতরে চলমান উপভোগ্য যেকোনো গল্পের উত্তেজনা, রহস্য ও নাটকীয়তা তীব্রতর করার জন্য যথাযথ। গল্পটি ক্লাসিক কোনো মার্ডার-মিস্ট্রিই হোক কিংবা মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার, জীবনমুখী বাস্তবতাবাদ কিংবা আধুনিক হলিউড-কোরিয়ান সিনেমার রোমান্টিক গল্প, চলন্ত ট্রেনের কামরাগুলো যেন একেকটি ছোট সমাজ। যেখানে বিভিন্ন শ্রেণী ও মানসিকতার মানুষ এক সুতোয় বাঁধা পড়ে সহজেই। আর সেজন্যই গত সোয়া এক শতাব্দী ধরে প্রযুক্তি বদলে গ্রিন স্ক্রিন বা এলইডি ওয়ালে রূপ নিলেও, রূপালী পর্দার রিলের সঙ্গে ছুটে চলা চলন্ত ট্রেন দক্ষ পরিচালকের স্পর্শে এখনও সমানভাবে বুঁদ করে রেখেছে দর্শককে।

অধুনা হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা 'বনলতা এক্সপ্রেসে' যেমন দেখা যায় গোটা সিনেমার স্টোরিলাইনই আবর্তিত হচ্ছে ট্রেনের ভেতর চলমান নানামুখী অঙ্ককে কেন্দ্র করে। এছাড়াও বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে দানবীয় অথচ সরীসৃপ আকৃতির নাটকীয় এই বাহনটির গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ করেছে দর্শক। সিনেমাপ্রেমী যারা ট্রেন নির্ভর স্টোরি লাইনের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করেন, তাদের জন্য আজকের আয়োজনে থাকছে ট্রেন নির্ভর এমনই কিছু সিনেমার খোঁজ।

১. বুলেট ট্রেন (২০২২)

২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় হলিউড অ্যাকশন-কমেডি সিনেমা 'বুলেট ট্রেন'এর পুরো গল্প ও ঘটনাপ্রবাহ একটি দ্রুতগতির জাপানি ট্রেনের ভেতর আবর্তিত হয়। বিখ্যাত অভিনেতা ব্র্যাড পিট অভিনীত এই সিনেমাটি মূলত কোতারো ইসাকার লেখা জনপ্রিয় জাপানি উপন্যাস মারিয়া বিটলের ওপর ভিত্তি করে চমৎকারভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনী গড়ে উঠেছে জাপানের টোকিও থেকে কিয়োটোগামী একটি হাই-স্পিড বুলেট ট্রেনকে কেন্দ্র করে। 'লেডিবাগ' নামের একজন পেশাদার ঘাতক একটি সাধারণ ব্রিফকেস উদ্ধারের মিশন নিয়ে এই ট্রেনে ওঠে। কিন্তু ট্রেনে চড়ার পর সে আবিষ্কার করে, তার মতো আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক স্তরের দক্ষ খুনি ও অপরাধী একই ট্রেনে অবস্থান করছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের সবার মিশন কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। আর এই সংযোগ ট্রেনের ভেতরেই এক চরম সংঘাতের সৃষ্টি করে। একটি নির্দিষ্ট ও আবদ্ধ ট্রেনের বগিগুলোর ভেতর কীভাবে এই ঘাতকেরা নিজেদের টিকিয়ে রাখতে একে অপরের মুখোমুখি হয় এবং রহস্য উন্মোচন করে, তা নিয়েই সিনেমার রোমাঞ্চকর এবং একইসঙ্গে হাস্যরসাত্মক গল্প সাজানো হয়েছে। ট্রেনের সীমিত জায়গার ব্যবহার করে দুর্দান্ত অ্যাকশন কোরিওগ্রাফি, চমৎকার কমেডি টাইমিং এবং আকস্মিক টুইস্ট সিনেমাটিকে দারুণ উপভোগ্য করে তুলেছে দর্শকদের কাছে। ফ্ল্যাশব্যাকের কিছু দৃশ্য ছাড়া পুরো চলচ্চিত্রের মূল মারামারি ও নাটকীয়তা এই চলন্ত ট্রেনের ভেতরেই ঘটতে থাকে।
সিনেমাটির দৃশ্যগুলো কিন্তু কোনো চলন্ত জাপানি ট্রেনে ধারণ করা হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেসের সনি স্টুডিওর সেটে তৈরি করা হয়েছিল ট্রেনের বগিগুলোর নিখুঁত রেপ্লিকা। ট্রেনের জানালার বাইরে চলমান দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহৃত হয়েছিল আধুনিক 'ভার্চুয়াল প্রোডাকশন' প্রযুক্তি। সেটের চারপাশ জুড়ে বিশালাকার এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এলইডি স্ক্রিন বসিয়ে তাতে আগে থেকে রেকর্ড করা টোকিও থেকে কিয়োটোর রাতের হাইওয়ে ও শহরের দৃশ্য চালানো হতো। অভিনেতাদের অভিনয়ে বাস্তব অনুভূতি এনে দিয়েছিল সংযুক্ত এই দৃশ্য।


২. নায়ক (১৯৬৬)

বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি অনন্য এক মাস্টারপিস হলো 'নায়ক' সিনেমাটি। ছবির প্রায় সম্পূর্ণ গল্প গড়ে উঠেছে কলকাতা থেকে দিল্লিগামী একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর বগিতে। মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মহানায়ক উত্তম কুমার। 'অরিন্দম মুখার্জি' নামের এক জনপ্রিয় কিন্তু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার ভূমিকায় অভিনয় করেন বাস্তবের এই মহানয়ক। ট্রেনে তার আলাপ হয় অনিন্দিতা (শর্মিলা ঠাকুর) নামের এক প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারী সম্পাদকের সঙ্গে। ট্রেন ভ্রমণের দীর্ঘ সময়ে অরিন্দম তার জীবনের সাফল্য, ব্যর্থতা, একাকীত্ব ও লুকিয়ে থাকা অপরাধবোধগুলো অনিন্দিতার কাছে অবলীলায় প্রকাশ করতে থাকেন। ট্রেনের এই বদ্ধ পরিবেশকে মানুষের অবদমিত মনস্তত্ত্ব, অহংকার এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মেকি রূপ ফুটিয়ে তোলার এক দুর্দান্ত ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করেছেন এই নির্মাতা। ট্রেনের চাকার ছন্দ আর চলন্ত জানালার বাইরের দৃশ্য এখানে যেন জীবনের এক রূপক যাত্রা। যা একজন মহাতারকার ভেতরের সাধারণ মানুষকে দর্শকদের সামনে উন্মোচিত করতে থাকে পরতে পরতে।
১৯৬৬ সালের প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সত্যজিৎ রায় স্টুডিওর ভেতর চমৎকার এক অপটিক্যাল ইলিউশন তৈরি করেছিলেন। কলকাতার নিউ থিয়েটার্স স্টুডিওতে ট্রেনের এসি ফার্স্ট ক্লাস বগির হুবহু সেট বানানো হয়েছিল। ট্রেনটি যে সত্যিই লাইনের ওপর দিয়ে দুলছে, তা বোঝানোর জন্য সত্যজিৎ রায় সেটের ভেতরে প্রপ যেমন, পানির বোতল, ছাতা ও ক্যামেরা ঝুলিয়ে সেগুলোকে দুলিয়ে দিতেন। এছাড়া ট্রেনের জানালার বাইরে চলন্ত ট্রেনের ব্যাক-প্রোজেকশন স্ক্রিন ব্যবহার করে চলমান ট্রেনের নিখুঁত আবহ তৈরি করা হয়েছিল।


৩. দ্য লেডি ভ্যানিশেস (১৯৩৮)

সাসপেন্সের জাদুকর অ্যালফ্রেড হিচককের নির্মাণ, অন্যতম সেরা ক্লাসিক মিস্ট্রি-থ্রিলার হলো 'দ্য লেডি ভ্যানিশেস'সিনেমাটি। ছবির মূল পটভূমি ইউরোপের একটি চলন্ত ট্রেন। ট্রেনে ভ্রমণকালে আইরিস নামের এক তরুণী লক্ষ্য করেন যে, তার বগির সহযাত্রী এবং আগের রাতে পরিচয় হওয়া মিস ফ্রয় নামের এক বৃদ্ধা হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছেন। যেন হঠাৎ করেই হাওয়াতে মিলিয়ে গেছে তার অস্তিত্ব। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, এই বৃদ্ধার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করাতে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা পুরোপুরি অস্বীকার করতে থাকেন যে, এই নামে কোনো বৃদ্ধা আদৌ ট্রেনে ছিলেন। ঠিক তখনই গিলবার্ট নামের এক তরুণ সংগীতজ্ঞের সাহায্য নিয়ে ট্রেনের বগিতে বগিতে অনুসন্ধান শুরু করেন আইরিস। হিচকক অত্যন্ত চমৎকারভাবে ট্রেনের সংকীর্ণ করিডোর এবং কামরাগুলোকে এক চরম উত্তেজনা ও সন্দেহের আবহে রূপান্তর করেছেন। শেষ পর্যন্ত জানা যায়, এটি কেবল কোনো সাধারণ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় আন্তর্জাতিক গুপ্তচরবৃত্তি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের নীলনকশা। কমেডি ও নিখাদ রহস্যের মিশেলে ট্রেনের ভেতর তৈরি হওয়া এই ক্লাসিক থ্রিলারটি আজীবন দাগ কেটে থাকবে সিনেমাপ্রেমীদের মনে।
এই সিনেমাও পুরোপুরি স্টুডিও-ভিত্তিক চলচ্চিত্র ছিল। লন্ডনের আইসলিংটন স্টুডিওর একটি অত্যন্ত ছোট ও সংকীর্ণ সাউন্ড স্টেজে ট্রেনের পুরো সেটটি তৈরি করা হয়েছিল। হিচকক অত্যন্ত চমত্কারভাবে ট্রেনের সংকীর্ণ করিডোর এবং কামরাগুলোকে এক চরম উত্তেজনা ও সন্দেহের আবহে রূপান্তর করেছেন। ট্রেনের জানালার বাইরে চলমান দৃশ্যের বিভ্রম তৈরি করতে সে যুগে ব্যাক-প্রোজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিলেন হিচকক। যেখানে সেটের পেছনে প্রজেক্টরের সাহায্যে চলন্ত ট্রেনের জানালার দৃশ্য প্রজেক্ট করা হতো।


৪. মার্ডার অন দ্য অরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (১৯৭৪)

বিখ্যাত রহস্যসম্রাজ্ঞী আগাথা ক্রিস্টির কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে সিডনি লুমেট পরিচালিত 'মার্ডার অন দ্য অরিয়েন্ট এক্সপ্রেস' একটি চমৎকার মার্ডার-মিস্ট্রি সিনেমা। ছবির পুরো ঘটনাটি ঘটে শীতের রাতে বরফে আটকে পড়া বিলাসবহুল 'অরিয়েন্ট এক্সপ্রেস' ট্রেনের ভেতর। ট্রেনের এক কামরায় এক কুখ্যাত আমেরিকান ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়। কাকতালীয়ভাবে সেই ট্রেনেই ভ্রমণ করছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারো। পোয়ারো ট্রেনের ভেতরে থাকা ১৩ জন রহস্যময় আন্তর্জাতিক যাত্রীকে জেরা করতে শুরু করেন। কারণ প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কারণে সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। ট্রেনটি বরফে অবরুদ্ধ থাকায় খুনি বাইরের কেউ নয়, বরং ট্রেনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে, এই থিমটি শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার মুখোমুখী করে তুলে দর্শকদের। অত্যন্ত চমৎকার ইনডোর লাইটিং এবং আবদ্ধ ট্রেনের কামরার নিখুঁত ব্যবহার করে পোয়ারো কীভাবে জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই খুনের রহস্যভেদ করেন, রূপালী পর্দায় দেখার মতোই এক অভিজ্ঞতা যেন এটি। সিনেমাটির জন্য লন্ডনের 'এলাস্ট্রি স্টুডিওতে'বিলাসবহুল অরিয়েন্ট এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিগুলোর অবিকল সেট তৈরি করা হয়। ট্রেনের ভেতরের দৃশ্যগুলোকে বাস্তবসম্মত করতে পুরো সেটটিকে এক ধরণের মেকানিক্যাল হাইড্রোলিক মেকানিজমের ওপর স্থাপন করা হয়েছিল, যা শুটিং চলাকালীন অনবরত কাঁপত ও দুলত। এর ফলে মনে হতো ট্রেনটি সত্যিই লাইনের ওপর দিয়ে চলছে। অত্যন্ত চমৎকার ইনডোর লাইটিং এবং আবদ্ধ ট্রেনের কামরার নিখুঁত সদ্ব্যবহার করে শুট করা হয়েছিল পোয়ারোর জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের দৃশ্যগুলো।



৫. ট্রেন টু বুসান (২০১৬)

দক্ষিণ কোরিয়ার এই ব্লকবাস্টার সিনেমাটি জম্বি ঘরানার চলচ্চিত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। সিউল থেকে বুসানগামী একটি দ্রুতগতির কেটিএক্স ট্রেনের ভেতর এই সিনেমার ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে। এক বাবা ও তার ছোট মেয়ে ট্রেনে চড়ে গন্তব্যের দিকে রওনা হয়। ঠিক তখনই এক মারাত্মক জম্বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে পুরো দক্ষিণ কোরিয়ায়। ট্রেনের ভেতর সংক্রামক এক যাত্রী ওঠার পর পুরো ট্রেনের বগিগুলো একের পর এক জম্বিতে রূপান্তর হতে থাকে। ট্রেনের মরণফাঁদে আটকে পড়া যাত্রীদের টিকে থাকার লড়াই, মানুষের চরম স্বার্থপরতা এবং আত্মত্যাগের গল্প নিয়ে এগিয়ে যায় সিনেমাটি। ট্রেনের গ্লাস ডোর, অন্ধকার টানেল এবং সংকীর্ণ বগিগুলোকে ব্যবহার করে যেভাবে প্রতিটি অ্যাকশন ও আতঙ্কের দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে, তা থিয়েটারের আসনে অনড় করে রাখে দর্শককে। এটি চলন্ত ট্রেনের পটভূমিতে তৈরি অন্যতম গতিশীল ও আবেগঘন অ্যাকশন-হরর সিনেমা। কোরিয়ান এই সিনেমার সিংহভাগ শুটিং হয়েছে স্টুডিওর গ্রিন স্ক্রিনের সামনে। কোরিয়ান হাই-স্পিড কেটিএক্স ট্রেনের বগিগুলোর মতো কয়েকটি সেট তৈরি করা হয়েছিল। গিম্বালের ওপর বসানো হয়েছিল সেগুলোকে। যা প্রয়োজন অনুযায়ী ঝাঁকুনি ও গতিশীলতা গতি তৈরি করতে পারত। জানালার বাইরে ছুটে চলা জম্বি, স্টেশন বা চারপাশের গ্রিন স্ক্রিনের অংশগুলো পরে ভিএফএক্স/ সিজিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে যোগ করা হয়। আলোর প্রতিফলন ঠিক রাখার জন্য বড় বড় প্যানেল লাইট ব্যবহার করা হয়েছিল সেটের বাইরে।


৬. দ্য দার্জিলিং লিমিটেড (২০০৭)

খ্যাতনামা পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসনের সিগ্নেচার স্টাইলে তৈরি একটি চমৎকার কমেডি-ড্রামা ফিল্ম হলো 'দ্য দার্জিলিং লিমিটেড'। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা তিন ভাই তাদের বাবার মৃত্যুর পর নিজেদের মধ্যকার মানসিক দূরত্ব কমাতে এবং আত্মিক শান্তি খুঁজতে ভারতের রাজস্থানে 'দার্জিলিং লিমিটেড' নামক একটি ট্রেনে চড়ে এক দীর্ঘ ভ্রমণে বের হয়। সিনেমাটির সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে এই তিন ভাইয়ের অদ্ভুত আচরণ,ফ্লাশব্যাক, ঝগড়া এবং ট্রেনের বিচিত্র পরিবেশ। ট্রেনের কামরাগুলোকে নিজের স্বভাবসুলভ দৃষ্টিনন্দন রঙ, নিখুঁত সেমেট্রি এবং চমৎকার আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়েছিলেন ওয়েস অ্যান্ডারসন। ট্রেনের জানালা দিয়ে ভারতের গ্রামীণ ল্যান্ডস্কেপ দেখতে দেখতে তিন ভাইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনকে নতুনভাবে আবিষ্কারের অভিজ্ঞতকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলে সিনেমাটি। ট্রেনের এই গতিশীল কিন্তু আবদ্ধ পরিবেশ চরিত্রগুলোর ভেতরের মানসিক পরিবর্তনের জন্য এক দারুণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ট্রেন নির্ভর সিনেমার তালিকায় একমাত্র ব্যতিক্রম হলো এই সিনেমাটি। পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসন স্টুডিওর কৃত্রিম সেট বা গ্রিন স্ক্রিন একদমই পছন্দ করেন না। তাই তিনি ভারতীয় রেলওয়ের কাছ থেকে আস্ত একটি আসল ট্রেন এবং লোকোমোটিভ ইঞ্জিন ভাড়া করেছিলেন! রাজস্থানের থর মরুভূমির ওপর দিয়ে চলা সেই আসল ট্রেনের ভেতরের বগিগুলো নিজেদের মতো করে পেইন্টিং করে ও রাজস্থানি আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছিলেন তারা। চলন্ত ট্রেনের একদম সংকীর্ণ বগির ভেতরেই ক্যামেরা ও লাইট সেট করে বেশ ঝুঁকিপূর্ণভাবে এবং বাস্তব লোকেশনে শুট করা হয়েছিল এই সিনেমা।

ট্রেনসিনেমাবিশ্ব চলচ্চিত্র
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    সাত মন্ত্রীকে অনেক প্রশ্ন

    সাত মন্ত্রীকে অনেক প্রশ্ন

    ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৮

    ওএসডিতে তারা দারুণ খুশি

    ওএসডিতে তারা দারুণ খুশি

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৭

    নিজ খরচে ফলক পরিষ্কার করেন সোহেল

    নিজ খরচে ফলক পরিষ্কার করেন সোহেল

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৩

    তুরস্কের ড্রোন তৈরি হবে বাংলাদেশে

    তুরস্কের ড্রোন তৈরি হবে বাংলাদেশে

    ০৭ জুন ২০২৬, ০০:০৮

    কলাপাড়ায় বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

    কলাপাড়ায় বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৮

    ০৭ জুন ২০২৬, ০০:৪০

    বোয়ালখালীর পাহাড়ে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার

    বোয়ালখালীর পাহাড়ে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার

    ০৭ জুন ২০২৬, ০১:১২

    ১৯ দিনে বিচার, সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি

    ১৯ দিনে বিচার, সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি

    ০৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৯

    ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে বাড়ছে তিল চাষ

    ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে বাড়ছে তিল চাষ

    ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৩৭

    রাজনীতিতেই থাকতে চান ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম

    রাজনীতিতেই থাকতে চান ছাত্রদল নেতা তরিকুল ইসলাম

    ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩৮

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:২৪

    ‘কামলা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা

    ‘কামলা’ সম্বোধনকে কেন্দ্র করে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যা

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:২৫

    শিক্ষক থেকে প্রবাসী, শেষে ঋণের চাপে মৃত্যু

    শিক্ষক থেকে প্রবাসী, শেষে ঋণের চাপে মৃত্যু

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:০৫

    কালীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পল্লী চিকিৎসক আটক

    কালীগঞ্জে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পল্লী চিকিৎসক আটক

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:০১

    পলাতক বাসচালক মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার

    পলাতক বাসচালক মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:২৭

    চিকিৎসক সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ

    চিকিৎসক সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোগান্তিতে দুই লাখ মানুষ

    ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮

    advertiseadvertise