টেইলর সুইফট-ট্রাভিস কেলসি কি আগেই বিয়ে করেছেন?

টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি
আজ শুক্রবার নিউইয়র্কের বিশ্ববিখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১,০০০ অতিথির উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে পপ কুইন টেইলর সুইফট এবং এনএফএল তারকা ট্রাভিস কেলসির ‘শতাব্দীর সেরা বিয়ে’।
কিন্তু ঠিক তার আগের রাতেই বোমার মতো ফাটল এক নতুন খবর, আসল বিয়ের আগেই নাকি গোপনে আইনিভাবে বিবাহিত এই তারকা জুটি!
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোনো এক গোপন জায়গায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের উপস্থিতিতে ইতিমধ্যেই একে অপরকে ‘আই ডু’ বলে দিয়েছেন টেইলর ও ট্রাভিস।
নিউইয়র্ক পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু সূত্র দাবি করেছে যে টেইলর সুইফটের প্রাইভেট জেটটি গত জুন মাসে এমন কিছু জায়গায় একাধিকবার যাতায়াত করেছে, যেখানে টেইলর এবং ট্রাভিসের পরিবারের সদস্যরা থাকেন।
ধারণা করা হচ্ছে, টেনেসির ন্যাশভিলে—যেখানে টেইলর তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো কাটিয়েছেন, সেখানেই অত্যন্ত গোপনে আইনি প্রক্রিয়া ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে ফেলেছেন এই জুটি।
তবে ভক্তদের একাংশ আবার এই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ভেন্যু নিয়ে বেশ নাখোশ! সুইফটের কট্টর ভক্তদের মতে, টেইলর সুইফটের গান মানেই যেখানে রূপকথা, শান্ত লেক কিংবা গ্রাম্য প্রকৃতির মায়াবী ছোঁয়া, সেখানে এমন একটি যান্ত্রিক স্পোর্টস অ্যারেনায় তিনি কীভাবে জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসবটি করছেন, তা অনেকেরই মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। তবে জল্পনা রয়েছে, এমএসজি-র ভেতরে নাকি আস্ত একটি রাজকীয় দুর্গের সেট তৈরি করা হয়েছে এই রাজকীয় বিয়ের জন্য!
গোপন বিয়ের খবর দাবানলের মতো ছড়ালেও ম্যানহাটনের সিটি ক্লার্ক অফিস কিন্তু এক অদ্ভুত তথ্য দিয়েছে। সেখানকার কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টেইলর সুইফটের নামে কোনো ম্যারেজ লাইসেন্স ইস্যু করার রেকর্ড তাদের ফাইলে নেই।
নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী, বিয়ে করার ২৪ ঘণ্টা আগে মাত্র ৩৫ ডলার খরচ করে একটি লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক, যা ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। কর্মকর্তারা বলছেন, সুইফটের মতো মেগাস্টার লাইসেন্স নিলে তারা সবার আগে জানতে পারতেন। তবে কি নিউইয়র্কের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে এই আইনি কাজ সেরে আজ শুধু রিসেপশন পার্টির আয়োজন করা হয়েছে? এই রহস্যের উত্তর অবশ্য একমাত্র টেইলর নিজেই দিতে পারেন।
বিয়ের জল্পনার মাঝেই এই তারকা জুটি নিউইয়র্কের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় যৌথভাবে ২৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে ট্র্যাকিংয়ে থাকা মিডিয়াকে বড় এক চমক দিয়েছেন।
এদিকে আজ শুক্রবারের মূল অনুষ্ঠানকে ঘিরে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের নিরাপত্তা এমনভাবে জোরদার করা হয়েছে যে, ভেতরে প্রবেশ করা সমস্ত ক্রু এবং অতিথিদের একটি বিশেষ গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। ভেন্যুর ভেতরে কোনো মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নেই।
২০২৩ সালের সেই বিখ্যাত ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রেসলেট’ দিয়ে শুরু হওয়া এই রূপকথার প্রেম আজ এক রাজকীয় পরিণতির দিকে যাচ্ছে।





