প্রথমবার ইউরোভিশনে বাংলাদেশ, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগী খোঁজা শুরু

ইউরোভিশন এশিয়ার লোগোতে বাংলাদেশের পতাকার কোলাজ
আন্তর্জাতিক সংগীত প্রতিযোগিতা ‘ইউরোভিশন এশিয়া’য় প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এজন্য ‘ন্যাশনাল সিলেকশন শো’ আয়োজন করেছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ। রবিবার (১০ মে) শুরু হয়েছে প্রতিযোগীদের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা শিল্পী ও মৌলিক গান থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আগামী ১৪ নভেম্বর ‘ইউরোভিশন এশিয়া’র ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
সংগীত দুনিয়ার ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ হিসেবে খ্যাত ইউরোভিশন শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। সাত দশক পেরিয়ে এখন এটি বিশ্বের বৃহত্তম লাইভ মিউজিক প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। এশিয়ায় ইউরোভিশনের নতুন সংস্করণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পীদের সামনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের তুলে ধরার দারুণ সুযোগ তৈরি হলো।
প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া ও লাওসের সংগীত প্রতিভাদের সঙ্গে একমঞ্চে লড়বে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় গানের পরিচিতি বৃদ্ধিতে এই অংশগ্রহণ সহায়ক ভূমিকা রাখহবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগী খোঁজার কার্যক্রম ‘ন্যাশনাল সিলেকশন শো’ হবে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রাইম-টাইম অনুষ্ঠান, যেখানে বিশ্বমানের স্টেজ প্রোডাকশন ও সরাসরি পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের পরবর্তী বৈশ্বিক তারকাকে খুঁজে বের করা হবে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে এনটিভি। পরিচালনায় ওয়াহিদুল ইসলাম শুভ্র।
ন্যাশনাল সিলেকশন শো’তে অংশগ্রহণে আগ্রহী সারাদেশের শিল্পী ও সংগীতকারদের মৌলিক গান জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একক শিল্পী, দ্বৈত বা অনধিক ছয় জনের দল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে (বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর)। জমা দেওয়া গান অবশ্যই মৌলিক হতে হবে এবং এর দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ৩ মিনিট।
ইউরোভিশনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, মূল কণ্ঠশিল্পীকে অবশ্যই সরাসরি বা লাইভ পারফর্ম করতে হবে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান ‘ভক্সোভেশন’ এবং দেশীয় শীর্ষস্থানীয় মিউজিক অংশীজনদের তত্ত্বাবধানে ফাইনালিস্টদের বিশ্বমানের পারফরম্যান্সের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
প্রতিযোগিতায় আবেদনের সময়সীমা ১০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে একটি বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল সেরা ১২ জনকে নির্বাচন করবেন। সাধারণ মানুষের ভোট এবং জুরি বোর্ডের নম্বরের সমন্বয়ে বেছে নেওয়া হবে চূড়ান্ত বিজয়ীকে। ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ‘জুপ’ দিয়ে চালিত অফিসিয়াল ইউরোভিশন এশিয়া প্ল্যাটফর্মে। এর মাধ্যমে দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে মনে করে বঙ্গ।
নির্বাচিত ১২ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর সংক্ষিপ্ত তালিকা আগামী ২১ জুন প্রকাশ করবেন আয়োজকেরা। জুলাই মাসজুড়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ তথা গ্রুমিং সেশন হবে চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের। আগামী ২৩ আগস্ট লাইভ গ্র্যান্ড ফাইনালের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচিত হবেন।
বঙ্গ কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইউরোভিশন নিয়ে আসা আমাদের জন্য গর্বের। এটি কেবল একটি টিভি শো নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সংগীতের বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি তুলে ধরার এক বিশাল সুযোগ। আমরা এমন একটি গান খুঁজছি, যা বৈশ্বিক শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নেবে এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতিনিধিত্ব করবে।”




