হোটেলের ওই রুমে আমি ছিলাম না, ছিলেন আমেরিকান গিটারিস্ট : জেমস

ছবি: আগামীর সময়
ইতালির রোমে কনসার্টকে ঘিরে হোটেল কক্ষ নোংরা করার অভিযোগ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় রক তারকা ‘নগরবাউল’ জেমস ও তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন।
আগামী ২৩ আগস্ট ইতালির ভেনিসে জেমসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে গত ২০ আগস্ট ভেনিসের মেস্ট্রেতে অবস্থিত বাংলাদেশ সেন্টারে স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জেমস। সেখানেই রোমের হোটেলকাণ্ডসহ তার ইউরোপ সফর ও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন এই শিল্পী।
‘ওই রুমে আমি ছিলামই না’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোমের বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলের একটি কক্ষ নোংরা অবস্থায় রেখে যাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেমস স্পষ্ট করে বলেছেন, যে কক্ষটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি ছিলেন না। জেমস বলেছেন, “ওই রুমে আমি ছিলামই না। আমি ছিলাম ৩৪৫ নম্বর রুমে, আর যে রুমটি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটি ৫৪৯ নম্বর রুম। সেখানে আমাদের অতিথি গিটারিস্ট ছিলেন। আমেরিকা থেকে এসেছেন, ইয়াং ছেলে।”
বিষয়টিকে বড় করে দেখার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জেমসের ভাষায়, ‘এটা কোনো বিগ ডিল না। নিয়ম কিন্তু হোটেল ক্লিনিং করা। কিন্তু ইয়াং ছেলে—ক্লিন করে নাই। এটা কোনো বড় ডিল না।’ এর আগে গত ১৬ আগস্ট রোমে কনসার্টের পর জেমস ও তার সফরসঙ্গীদের অবস্থান করা হোটেলের একটি কক্ষের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিগুলোতে মেঝেতে প্লাস্টিকের বোতল ও আবর্জনা, টেবিলে ব্যবহৃত প্লেট ও খাবারের উচ্ছিষ্ট এবং রান্নাঘরের সিঙ্কে নোংরা বাসন দেখা যায়। এ ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতার জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউরো পরিশোধের কথা জানিয়েছিল।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জবাব
এদিকে জেমসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে ‘আগামীর সময়’-এর ইতালি প্রতিনিধি প্রশ্ন করলে তার মুখপাত্র রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের যে চুক্তি ছিল, সেই চুক্তি অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। এর পরে উনারা যে কথা বলছেন, সেই কথার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো এভিডেন্স নেই। এগুলো উনারা বলে যাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘ইতালিতে আইন ভেরি স্ট্রং। আপনি আইন অনুযায়ী এগোবেন, আমিও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
‘কনসার্ট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এখনো আসেনি’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন ছিল, তিনি আর কনসার্ট করবেন কি না এবং কনসার্ট থেকে বিদায় নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে জেমস বলেছেন, “এখনও অনেক দূর বাকি। কেবল অর্ধেক পথ পাড়ি দিলাম, এখনো অর্ধেক পথ বাকি।” এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতেও সংগীতের সঙ্গে তার পথচলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেন এই রক তারকা।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে কোনো শিল্পীর মহা মঞ্চ’
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে জেমস বলেছেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো যে কোনো শিল্পীরই মহা এক মঞ্চ।” এ সময় তার পুরো নাম ফারুক মাহফুজ আনম এবং ‘জেমস’ নামটি কীভাবে এলো—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “জেমস আমার ডাক নাম।” ভেনিসের অলিগলিতে ক্যামেরা হাতে জেমস গানের পাশাপাশি ফটোগ্রাফিতেও জেমসের আগ্রহের কথা অনেকেরই জানা।
ভেনিসে আসার প্রথম দিনেই ক্যামেরা হাতে শহরের অলিগলিতে ছবি তুলতে দেখা যায় তাকে। এ বিষয়ে ‘আগামীর সময়’-এর প্রতিনিধি প্রশ্ন করলে জেমস বলেন, “ভেনিসকে ফটোগ্রাফারদের তীর্থভূমি বলা যায়। ভেনিসের অলিগলি একেকটা চিত্রকল্পের মতো। ভেনিস ফটোগ্রাফারদের হ্যাভেন।”
‘যেখানেই বাঙালি, সেখানেই আমরা যাব’
আগামী ইউরোপ ট্যুরে আবারও আসার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেমস বলেন, “যেখানেই বাঙালি আছে, সেখানেই আমরা যাব।” ফলে রোমের বিতর্কের মধ্যেও ভেনিসের কনসার্টকে ঘিরে জেমসের ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আগামী ২৩ আগস্ট ভেনিসে তার কনসার্টে কী বার্তা দেন এবং ইউরোপ সফরের পরবর্তী পরিকল্পনা কী হয়, সেদিকেই এখন নজর সংগীতপ্রেমীদের।







