অ্যালগরিদমের সঙ্গে মানিয়ে গান বানাতে হচ্ছে: নিক জোনাস

আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা নিক জোনাস
আমেরিকান
সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা নিক
জোনাস (৩৩) ভারতীয় অভিনেত্রী
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার জীবনসঙ্গীও বটে। তার সংগীতনির্ভর
নতুন চলচ্চিত্র ‘পাওয়ার ব্যালাড’ গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র
জুড়ে মুক্তি পেয়েছে।
নিক জোনাসের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জনি হক
‘পাওয়ার
ব্যালাড’-এ সংগীতজগতের চাকচিক্য ও চাপ দুটোই তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান বিশ্বের বিনোদনজগতে প্রাসঙ্গিক থাকার মূল্য সম্পর্কে চলচ্চিত্রটি কী বার্তা দেয় বলে মনে করেন?
এটা একটা ভালো প্রশ্ন। আমার মনে হয়, বিনোদন জগৎ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। শুধু গত পাঁচ বছরেই দেখুন, টিকটকের আবির্ভাব মানুষের গান শোনার অভ্যাস ও সংগীতের ট্রেন্ড তৈরির ধরন বদলে দিয়েছে। ফলে অ্যালগরিদমের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য নির্দিষ্টভাবে গান লিখতে হয়। এমনও কিছু বিষয় কাজ করে এখন। এসব পরিবর্তনকে চাইলে জটিলতা হিসেবে দেখতে পারেন, আবার এটাকে নতুন সুযোগ হিসেবেও ভাবা যায়।
‘পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াও, নইলে পিছিয়ে পড়ো’— এ মানসিকতায় বিশ্বাস করেন?
অবশ্যই। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ মানসিকতায় ঝুঁকে থাকি। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেগুলো সংগীতজগৎ, টপচার্ট ও শ্রোতাদের আচরণ বদলে দিয়েছে, সেগুলো ব্যবহার করি। এক্ষেত্রে চাপ কাজ করতে পারে। কিন্তু তাতে নতুন সহযোগী খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যারা নতুন পথ দেখায়। ফলে দর্শক-শ্রোতার সঙ্গে আরও সরাসরিভাবে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ভাবতে পারি। এসব প্ল্যাটফর্ম বিশাল এ পৃথিবীকে কিছুটা ছোট পরিসরে নিয়ে আসার এক সুযোগ তৈরি করে দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে কি আলাদা চাপ অনুভব করেন?
সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শ্রোতাদের পরিসরের দিকে না তাকিয়ে গভীরতার দিকে নজর দেওয়া। যদি সেই পদক্ষেপ নেওয়ার মনস্থির করে কেউ, তাহলে এমন একটি ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে, যারা অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও সক্রিয়। সামগ্রিকভাবে সংগীতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এখন আগের তুলনায় বেশ জটিল। এর কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের কাঠামোই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই চাপ নিয়ন্ত্রণ করে না আমাকে। এটাকে বাস্তবতা হিসেবে স্বীকার করি এবং তার পরেই ভাবতে থাকি, কীভাবে কাজে নিজের প্রভাব ফেলতে পারি। কীভাবে ভিড়ের মধ্যেও নিজেকে আলাদা করে তুলতে পারি— সেই উপায় খুঁজি।
চলচ্চিত্রেও কি এর প্রভাব দেখেন?
আমি মনে করি, চলচ্চিত্র শিল্পেও এর ভালো উদাহরণ আছে। বিশেষ করে এখন সময়টা খুবই রোমাঞ্চকর। একদিকে হেভিওয়েট স্টুডিওগুলোর বিশাল বাজেটের সিনেমা দারুণ সাফল্য পাচ্ছে। তেমনই অন্যদিকে ‘ব্যাকরুমস’ এবং ‘অবসেশন’-এর মতো মুভি তুলনামূলক কম বাজেটে তৈরি করেছেন এমন নির্মাতারা, যারা ইন্টারনেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা ইউটিউবার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন। পরে তারাই বড় মাপের চলচ্চিত্র পরিচালক হয়ে উঠেছেন। একজন অভিনেতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রপ্রেমী হিসেবে এসব পরিবর্তন দেখা সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চকর ব্যাপার। মনে হচ্ছে, আমরা একধরনের নবজাগরণের যুগ পার করছি। আর এটা সত্যিই খুব আশাব্যঞ্জক।
সুন্দর কিছু কথা বললেন। আমাদের আলাপ শেষ করতে হচ্ছে। নিক, আগামীর সময়কে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
[জন কার্নির পরিচালনায় ‘পাওয়ার ব্যালাড’ সিনেমায় গায়ক ড্যানি উইলসন চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিক জোনাস, যে অন্যের গান ব্যবহার করে নিজের ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, এশিয়াসহ অনেক অঞ্চলে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে।]




