কণ্ঠে আলাদাভাবে বিষণ্নতা তৈরির চেষ্টা করি না: অংকন কুমার

অংকন কুমার
বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে কোক স্টুডিও বাংলার নতুন গান ‘মথুরা’। এতে সানজিদা মাহমুদ নন্দিতার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন অংকন কুমার। এই গায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বর্ণা রায়
‘মথুরা’র গীতিকারও আপনি। কোন ভাবনা থেকে গানটি লিখেছিলেন?
‘মথুরা’ অনেক আগে লেখা একটি গান। একদিন খুলনায় খুব বৃষ্টি ও ঝড় হচ্ছিল। সে সময়ই অসমাপ্ত প্রেমের গল্প ঘিরেই গানটি লিখেছি। জীবনে ঘটে যাওয়া কিংবা শোনা অসংখ্য অসমাপ্ত প্রেমের গল্পের অনুভূতি এ গানে উঠে এসেছে।
এর শিরোনাম ‘মথুরা’ কেন?
নামটি কৃষ্ণ ও রাধার গল্প থেকে এসেছে। এটি একটি চিরন্তন প্রেমের গল্প। কৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন ছেড়ে মথুরায় চলে যান, তখন তিনি এক অর্থে তার ভালোবাসাকে পেছনে ফেলে গিয়েছিলেন। মথুরা তাই অসমাপ্ত ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানেও এক জায়গায় ‘মথুরা’ শব্দটি এসেছে। সেখান থেকেই এমন শিরোনাম।
গানটি আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি বা অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে? নাকি পুরোপুরিই কল্পনানির্ভর?
এটিকে শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে লেখা বলা যাবে না। আমার এ ধরনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে, পাশাপাশি আশপাশের মানুষের অভিজ্ঞতাও এ গানে মিশে গেছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনের নির্দিষ্ট কোনো অসমাপ্ত গল্প নিয়ে কথা বলতে চাই না। সেটি ব্যক্তিগত থাকাই ভালো।
সহশিল্পী নন্দিতার সঙ্গে এটি কোক স্টুডিও বাংলায় আপনার প্রথম ডুয়েট। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
নন্দিতা একজন অসাধারণ শিল্পী। তিনি যে ধরনের কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন, সেটি এ গানের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছে। আমার মনে হয়েছে, গানটির প্রতি তিনি সুবিচার করেছেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সত্যিই ভালো ছিল।
শ্রোতারা কোন গান কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেটিকে মাথায় রেখে কাজ করার চেয়ে নিজের পছন্দের সংগীত তৈরি করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি
‘হাতিরপুল সেশনস’ মিউজিক প্রজেক্টের ‘উপ’ গানের মাধ্যমে শ্রোতারা আপনার গানের সঙ্গে পরিচিত হন। সেই অংকন আর আজকের অংকনের মধ্যে বড় পার্থক্য কোথায়?
আমার কাছে বড় কোনো পার্থক্য ধরা পড়েনি। এখন শুধু আরও কয়েকটি গান তৈরি হচ্ছে, যেগুলো সামনে প্রকাশ পাবে। মূলত গান তৈরি ও সংগীত নিয়ে কাজ করার জায়গাটা আমার কাছে আগের মতোই আছে।
আপনার কণ্ঠে ‘উপ’র পাশাপাশি কোক স্টুডিও বাংলার ‘লং ডিস্ট্যান্স লাভ’ গানটি নিয়েও শ্রোতাদের আলাদা আবেগ তৈরি হয়েছিল। ‘মথুরা’ নিয়ে প্রত্যাশা কতটা আলাদা?
আমি মূলত নতুন নতুন গান ও সংগীত সৃষ্টির চেষ্টা করতে পছন্দ করি। নিজের বন্ধু, ভাই-বোন কিংবা মায়ের জন্যও অনেক সময় গান তৈরি করি। তাই গান তৈরি করাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রোতারা কোন গান কীভাবে গ্রহণ করবেন, সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেটিকে মাথায় রেখে কাজ করার চেয়ে নিজের পছন্দের সংগীত তৈরি করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
আপনার গানগুলোয় বিষণ্নতা, বিরহ ও না পাওয়ার অনুভূতি বারবার ফিরে আসার কারণ কী?
আসলে বিষয়টি গানভেদে পরিবর্তিত হয়। ‘মথুরা’ মূলত সেমি-ক্লাসিক্যাল ধরনের গান। এখানে নতুন সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারও রয়েছে। এখন পপসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সংগীত নিয়ে কাজ করছি। তাই আমার সংগীতে শুধু বিষণ্নতা বা বিরহই থাকবে, এমন নয়।
ছোটবেলা থেকেই শাস্ত্রীয় সংগীতের চর্চা করছেন। সেটি আপনার গায়কিতে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে?
শৈশব থেকেই পুরনো দিনের গান আমার খুব পছন্দ। নজরুলগীতিও আমাকে প্রভাবিত করেছে। অল্প বয়স থেকেই শুদ্ধ শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি আমার টান ছিল। তাই মনে হতো, যদি কখনো নিজের জন্য গান লিখি বা তৈরি করি, তাহলে সেমি-ক্লাসিক্যাল ধরনের কিছুও তৈরি করব। আমার বর্তমান সংগীতচর্চায় সেই প্রভাব অবশ্যই আছে।
শ্রোতারা আপনার কণ্ঠে যে বিষণ্নতা খুঁজে পান, সেটি আপনি সচেতনভাবে তৈরি করেন, নাকি স্বতঃস্ফূর্ত?
এটা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই চলে আসে। আমি আলাদাভাবে কণ্ঠে বিষণ্নতা তৈরির চেষ্টা করি না।
শ্রোতাদের প্রত্যাশা কি নতুন গান তৈরিতে চাপ সৃষ্টি করে?
না, সেভাবে চাপ অনুভব করি না; বরং নতুন নতুন সাউন্ড ও নতুন কিছু নিয়ে পরীক্ষা করতে আমার ভালো লাগে। আমি নিয়মিত গান তৈরি করি; যদিও তা প্রকাশের প্রক্রিয়া একটু ধীর। কারণ আমি যে ধরনের সাউন্ড চাই, সেটি পেতে সময় লাগে। বিভিন্ন জায়গায় থাকা সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে, কাজ পাঠাতে এবং বারবার কণ্ঠ দিতে হয়। এসব কারণে গান প্রকাশে কিছুটা সময় লেগে যায়।
সিনেমা ও ওয়েব ফিল্মের জন্যও আপনি গান তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রের জন্য গান তৈরি করা নাকি নিজেই গাওয়া— কোন জায়গায় নিজেকে বেশি দেখতে চান?
এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে কোনো ভালো সিনেমার গানের জন্য যদি আমাকে সত্যিই প্রয়োজন মনে করা হয়, তাহলে অবশ্যই সে কাজ করতে চাই। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সিনেমা, গল্প ও চিত্রনাট্যের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে।





