‘আমিনা সুন্দরী’র শততম মঞ্চায়ন
- থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ৩৫ বছর

‘আমিনা সুন্দরী’ নাটকের দৃশ্য- থিয়েটার আর্ট ইউনিট
মঞ্চে পথচলার ৩৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। এর মধ্যে তাদের ১২তম প্রযোজনা ‘আমিনা সুন্দরী’র শততম মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ও শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার মিলনায়তনে রয়েছে এর প্রদর্শনী।
একটি নাটকের শততম মঞ্চায়ন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন ‘আমিনা সুন্দরী’র মঞ্চব্যবস্থাপক ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক কামরুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, ‘একটি নাটকের ১০০তম প্রদর্শনী সম্পন্ন করা দারুণ আনন্দ ও গর্বের।’ একই সঙ্গে দলের পথচলার ৩৫ বছর পূর্তিকে একটি মাইলফলক বলে মনে করেন কামরুজ্জামান মিল্লাত।
তার কথায়, “টানা ৩৫ বছর একটি নাট্যদলকে সক্রিয় ও সচল রাখা ভীষণ কঠিন এক কাজ। তবে পথচলায় আমরা দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। দীর্ঘ যাত্রায় ‘কোর্ট মার্শাল’, ‘গোলাপজান’, ‘সময়ের প্রয়োজনে’ ও ‘আমিনা সুন্দরী’র মতো অসংখ্য দর্শকনন্দিত ও সফল প্রযোজনা মঞ্চে উপহার দিতে পেরেছি আমরা।”
এস এম সোলায়মান রচিত ‘আমিনা সুন্দরী’র নির্দেশনা দিয়েছেন রোকেয়া রফিক বেবী। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো লোককাহিনি ‘নছর মালুম ও ভেলুয়া সুন্দরী’ অবলম্বনে নির্মিত নাটকটিতে উঠে এসেছে বাঙালি নারীর প্রেম, ত্যাগ ও অপেক্ষার গল্প। পাশাপাশি পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার চিত্র এর অন্যতম বিষয়।
নাটকের গল্পে আমিনা সুন্দরীর স্বামী নছর পেশায় জাহাজের মালুম। ব্যবসার কাজে নছর বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) পাড়ি জমালে তার ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটতে থাকে আমিনা। কিন্তু নছর সেখানে গিয়ে এখিন নামের এক নারীকে বিয়ে করেন।
নাট্যদলটির ভাষ্য, প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই লোককাহিনির মধ্যেও সমকালীন সমাজের বাস্তবতা খুঁজে পাওয়া যায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর প্রেম, ত্যাগ, বঞ্চনা ও স্বামীর প্রতারণার যে চিত্র এতে ফুটে উঠেছে, সেসব আজও প্রাসঙ্গিক। তাই ‘আমিনা সুন্দরী’কে শুধু একজন নারীর গল্প হিসেবে নয়, হাজারো নারীর অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে মঞ্চে তুলে ধরেছে দলটি।
বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেলিম মাহবুব, কামরুজ্জামান মিল্লাত, পল্লবী, শিল্পী চৌধুরী, রেজাউল সুজন, ফেরদৌস আমিন বিপ্লব, নীল চৌধুরীসহ অনেকে।




