৩২ বছর আগের ম্যাজিক মনে করে কাঁদলেন সুস্মিতা

৩২ বছর আগে এই দিনেই মিস ইউনিভার্সের মুকুট মাথায় পড়ে বিশ্বকে তাক লাগান সুস্মিতা সেন
আঠারো বছর বয়সের কাঁচা মাথায় নতুন করে জীবন শুরু করার দিনগুলোতে যেকোনো মানুষই বড্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। কিন্তু ভাগ্যদেবী রুপালি পর্দার জনপ্রিয় সুস্মিতা সেনের জন্য একদম অন্যরকম এক রাজকীয় গল্প লিখে রেখেছিলেন। আজ থেকে ঠিক ৩২ বছর আগে ১৯৯৪ সালের এই ২১ মে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে মিস ইউনিভার্সের মুকুট মাথায় পরে তিনি পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
এনডিটিভির সঙ্গে এক একান্ত আড্ডায় নিজের জীবনের সেই অবিস্মরণীয় দিনটির কথা মনে করে ৫০ বছর বয়সী এই চিরসবুজ নায়িকা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মনের ভেতরের তীব্র ইচ্ছাশক্তি বা ম্যানিফেস্টেশনের জোরে যে এত বড় স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব, তা তিনি নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
বিশ্বের দরবারে চেনার আগে দিল্লির বসন্ত কুঞ্জের এক ছোট্ট মধ্যবিত্ত ঘরে সুস্মিতা নিজের মতো করে এক বড় স্বপ্ন বুনতেন। ঘরের নিচু ছাদের কারণে সিলিং ফ্যানটি প্রায় কোলের কাছে চলে আসায় তিনি সেটির দিকে তাকিয়ে দিন-রাত এক অদ্ভুত দৃশ্য কল্পনা করতেন। তিনি মনে মনে ভাবতেন মস্ত বড় কালো চশমা চোখে দিয়ে তিনি একটা সাধারণ অটোরিকশা থেকে নামছেন আর শত শত মানুষ তাকে দেখে আনন্দে হাততালি দিচ্ছে।
১৯৮৪ সালে মহাকাশে যাওয়া প্রথম ভারতীয় রাকেশ শর্মার বীরত্ব দেখে তার মনের কোণে এই আকাশছোঁয়া স্বপ্ন দেখার সাহস তৈরি হয়েছিল। রাকেশ শর্মা মহাকাশ বা স্পেস জয় করলেও এই ছোট্ট মেয়েটি মনে মনে পুরো মহাবিশ্ব বা ইউনিভার্স জয় করার এক তীব্র বাসনা লালন করতেন।
ম্যানিলার সেই আলো ঝলমলে প্রকাণ্ড মঞ্চে বিশ্বের ৭৬ জন সেরা সুন্দরীকে হারিয়ে সুস্মিতা যখন চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছান, তখন পুরো ভারতের মানুষ টিভির সামনে বসে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছিলেন। বিচারকেরা ‘ইন্ডিয়া’ বলে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করতেই হলের বড় বড় লাইটগুলো নিভিয়ে শুধু একটি সিঙ্গেল স্পটলাইট সুস্মিতার ওপর এসে পড়েছিল।
সেই জাদুকরি আলোর বৃত্তে দাঁড়িয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে মহাবিশ্ব তাকে আপন করে নেওয়ার এক দারুণ সংকেত দিচ্ছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সের সেই কাঁচা বয়সে নারীত্বের আসল রূপ নিয়ে দেওয়া তার চমৎকার উত্তরটি আজও বিশ্ব জুড়ে সবার মনে সমানভাবে দাগ কেটে যায়। তিনি বলেছিলেন যে মা হওয়া বা নারী হওয়াই হলো ঈশ্বরের সবচেয়ে বড় উপহার, যা পুরুষকে ভালোবাসা, যত্ন আর ভাগাভাগি করার আসল মানে শেখায়।
মিস ইউনিভার্সের মতো বড় খেতাব পাওয়ার পর সুস্মিতাকে সবসময় মানুষের সামনে নিখুঁত ও গ্ল্যামারাস থাকার এক মস্ত বড় মানসিক চাপ সহ্য করতে হয়েছিল। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে তিনি নিজের আসল রূপটাকেই হারিয়ে ফেলছিলেন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে গায়ের চামড়ার বাইরের চাকচিক্যের চেয়ে মনের ভেতরের গভীর সৌন্দর্যটাই আসল যা মানুষ আজীবন মনে রাখে। এত বড় তারকা হওয়ার পরও সাধারণ মানুষের মতো হীনমন্যতা, ভয় আর অস্থিরতা তার মনের ভেতরেও সমানভাবে কাজ করে।
তবে ৩২ বছর ধরে লাইমলাইটে থাকার অভ্যাসের কারণে সুস্মিতা এখন যেকোনো দুঃখ বা খারাপ লাগা থেকে খুব দ্রুত নিজেকে বের করে নিয়ে আসতে পারেন।
দেশের জন্য বয়ে আনা সেই ঐতিহাসিক গৌরবের আজ ৩২ বছর পূর্ণ হওয়ায় সুস্মিতার ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন।
সূত্রঃ এনডিটিভি











