‘সব ধর্মকেই সম্মান করি’, ব্যক্তিগত বিশ্বাস নিয়ে খোলামেলা জিনাত আমান

অভিনেত্রী জিনাত আমান
বলিউডের সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জিনাত আমান অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সরব। ব্যক্তিগত জীবন, স্মৃতি এবং সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত মতামত ভাগ করে নেন তিনি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নিজের আরও একটি নামের কথা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে জিনাত জানান, তার বাবার দেওয়া নাম ছিল ‘জিনাত আমান’। তবে মায়ের পক্ষ থেকেও একটি নাম রাখা হয়েছিল তার জন্য। সেই নাম ‘ললিতেশ্বরী’। অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার মা বর্ধিনী ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ হিন্দু নারী। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় প্রার্থনা ও পূজার্চনায় কাটাতেন তিনি। ছোটবেলায় মূলত মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন জিনাত।
নিজের ধর্মীয় পরিচয় প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী হিসেবে দেখেন না। এর পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের বড় ভূমিকা রয়েছে। তার মা ছিলেন হিন্দু, বাবা মুসলিম। পরে তিনি একটি ক্যাথলিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। জিনাত আমানের সৎ বাবা ছিলেন জার্মান। ফলে ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
জিনাতের মতে, জীবনের অভিজ্ঞতাই মানবতাকেই সবচেয়ে বড় মূল্যবোধ হিসেবে দেখতে শিখিয়েছে তাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, দয়া, শান্তি, সমতা এবং মানুষ ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের চেয়ে মানবিক মূল্যবোধকেই নিজের জীবনের পথনির্দেশক মনে করেন তিনি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মায়ের সংগ্রামী জীবনের কথাও তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রক্ষণশীল সমাজের নানা সমালোচনা ও বাধা সত্ত্বেও তার মা নিজের বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জীবনযাপন করেছেন।
২০২৬ সালের এপ্রিলে মাকে স্মরণ করে দেওয়া এক পোস্টে জিনাত লিখেছিলেন, তার মা ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা একজন নারী। ধর্মপ্রাণ হিন্দু হয়েও প্রথমে একজন মুসলিম পুরুষকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই সম্পর্কের অবসানের পর একজন জার্মান নাগরিককে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। বাবার মৃত্যুর পর মা-ই একা তাকে বড় করে তোলেন এবং অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও নিয়েছিলেন তিনিই।
অভিনেত্রীর এই বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতাকে প্রাধান্য দেওয়ায় অনেকের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন জিনাত আমান।






