আগামীর সময়

'চরমপন্থি মতাদর্শ চর্চায়' হাভার্ডে পেন্টাগনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ

'চরমপন্থি মতাদর্শ চর্চায়' হাভার্ডে পেন্টাগনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ

সংগৃহীত ছবি

আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (আইভি লিগ) সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান তিক্ততার মধ্যে এবার নতুন ঘোষণা দিল দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সব অ্যাকাডেমিক সম্পর্কে ইতি টানার কথা জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।


ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেন্টাগনের সব সামরিক শিক্ষা কার্যক্রম, ফেলোশিপ ও সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম বন্ধ হচ্ছে। বিবৃতি দিয়ে শুক্রবার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান হেগসেথ।


তাতে বলা হয়, 'হাভার্ড এখন আর প্রতিরক্ষা বিভাগ বা সামরিক সার্ভিসের চাহিদা পূরণ করে না... বেশ অনেকদিন ধরেই দপ্তর থেকে আমাদের সবচেয়ে দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের হাভার্ডে পাঠানো হতো এই আশায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়টি আমাদের যোদ্ধাদের মান আরও ভালোমতো উপলব্ধি করবে ও তাদের সমাদর করবে। উল্টো আমাদের অনেক বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা ফিরে এসেছেন হাভার্ডের মতো হয়ে, তাদের মাথা বোঝাই হয়েছে বিশ্ববাদি ও চরমপন্থি মতাদর্শে। এ ধরনের মতাদর্শ আমাদের যুদ্ধের মানোন্নয়ন করে না।'


পরে এক এক্সবার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'হাভার্ড অতি জাগ্রত, সামরিক বিভাগ তেমনটি নয়।'


এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে। হেগসেথ জানান, অন্যান্য আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ ধরনের অ্যাকাডেমিক সম্পর্ক আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্বিবেচিত হবে।


দেশটির সেনাবাহিনী এর কর্মকর্তাদের জন্য স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন ডিগ্রি নেয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে। সেনাবাহিনী পরিচালিত কলেজের পাশাপাশি হাভার্ডের মতো বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই সুবিধা পান সেনা কর্মকর্তারা।


হাভার্ড থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন খোদ হেগসেথ। তবে ২০২২ সালে ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে এই ডিগ্রি প্রতীকী অর্থে ফেরত দেন তিনি।


গাজায় আমেরিকার মিত্র ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদে 'প্যালেস্টাইনপন্থি' বিক্ষোভ সংগঠিত করাসহ ট্রান্সজেন্ডার নীতি ও জলবায়ুসংক্রান্ত বেশকিছু ইস্যুতে আইভি লিগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর অসন্তুষ্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নেয়া হয়েছে বেশ কিছু কঠোর ব্যবস্থাও।


ক্ষতি এড়াতে কয়েকটি আইভি লিগ প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নানা চুক্তি করেছে, পাশাপাশি মেনে নিয়েছে সরকারের কিছু চাহিদা। এর মধ্যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সরকারকে ২২০ মিলিয়নের বেশি ডলার দিতে রাজি হয়েছে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে ৫০ মিলিয়ন ডলার। এসব অর্থ স্থানীয় কর্মশক্তির উন্নয়নে খরচ করার জন্য নিচ্ছে সরকার।


তবে হাভার্ডের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। হার্ভাডের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল তহবিল ফ্রিজের উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট। জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এখন পর্যন্ত এর সুরাহা হয়নি।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এর আগে হাভার্ডের বিরুদ্ধে 'আমেরিকাবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড' পরিচালনার অভিযোগ তোলেন। 'প্যালেস্টাইনপন্থি' বিক্ষোভ সংগঠিত করায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তিনি অ্যান্টিসেমিটিক বা ইহুদিবিদ্বেষী বলেও আখ্যা দেন।

    শেয়ার করুন: