পরিচয় জানতে চাওয়ায় আনসার সদস্যকে মারধর করলেন ছাত্রদল নেতা

অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) প্রধান ফটকে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্যকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জিল্লুর রহমান শেকৃবির ৭৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদুল কবির তাপসের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান ফটকে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আবুল হাসান রিকশাযোগে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা জিল্লুর রহমানের কাছে পরিচয় জানতে চান। তখন রিকশা থেকে নেমে আনসার সদস্যের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন জিল্লুর। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেননি ওই আনসার সদস্য।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য আবুল হাসান বলেছেন, ‘আমি দায়িত্ব পালনকালে তাকে জিজ্ঞাসা করি তিনি শিক্ষার্থী কি না। তিনি শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন এবং হলে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। আমি বলি, ‘আপনি মিথ্যা বলছেন না তো?’— এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার ইউনিফর্মের কলার ধরে পাঁচ-ছয়টি থাপ্পড় মারেন। এরপর বললেন, ‘ডাক তোর জাবের বাপকে, ডাক তোর ইউনূস বাপকে। আমার ফেইস চিনে রাখ।’
আরেক আনসার সদস্য বললেন, জিল্লুর রহমান এর আগেও একাধিকবার দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এবার শারীরিকভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
এদিকে জিল্লুর রহমান দাবি করেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। তিনি বললেন, ‘আমি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও আনসার সদস্য আমাকে মিথ্যাবাদী বলেন এবং আইডি কার্ড দেখতে চান। আমি জানাই, আইডি কার্ড সঙ্গে নেই। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে আমি আনসার সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বিষয়টি পারস্পরিকভাবে মিটমাট হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আরফান আলী বলেছেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি। উভয়পক্ষকে মুখোমুখি বসিয়ে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আহমেদুল কবির তাপস বললেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত। নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল। তবে আমি অসুস্থ থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তাই দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সে অর্থে প্রযোজ্য নয়।’





