বাংলাদেশ ব্যাংক
১ টাকায় ল্যাপটপ!

মাত্র এক টাকায় ল্যাপটপ পান বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সাধারণত অতিরিক্ত পরিচালক পদ ও সমমানের কর্মকর্তা থেকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পর্যন্ত এক টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কেনা ল্যাপটপের মালিক বনে যান। মূলত মূল্যক্ষয় বা ডেপ্রিসিয়েশন পদ্ধতিতে একটি ল্যাপটপের দাম কমতে কমতে এক টাকা হিসাব করা হয়। সেই এক টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়।
এরপর ল্যাপটপ কর্মকর্তার নামে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তরের আগে ল্যাপটপ পাঁচ বছর ব্যবহার করা হয়েছে— এমন শর্ত বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ব্যবহার উপযোগিতা একটা সময় পার করার পর কমে যায়। তবে তা পাঁচ বছরের কমবেশি হতে পারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর নীতিমালা অনুসরণ করছে।
জানা গেছে, অনেক সময় ডেস্কটপের পাশাপাশি ল্যাপটপ ব্যবহার করেন কর্মকর্তারা। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপের উপযোগিতা খুব একটা কমে না। মানে কোনোভাবে এক টাকায় নেমে আসে না। অনেক কর্মকর্তা কৌশলে বা প্রভাব খাটিয়ে সেই ল্যাপটপ বরাদ্দ নেন এবং আইটি বিভাগের কর্মকর্তাদের বকশিশ দিয়ে উপযোগিতা শেষ দেখিয়ে নিজের করে নেন।
অনেকের মত, ল্যাপটপ এক টাকায় বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিভাগের কর্মকর্তাদের বাইরে তৃতীয় কারও মাধ্যমে উপযোগিতা শেষ হওয়ার বিষয়টি যাচাই করা দরকার। এতে স্বচ্ছতা ফিরবে। সন্দেহ দূর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপুল অর্থও সাশ্রয় হবে।
জানা গেছে, ল্যাপটপ পেতে এক শ্রেণির কর্মকর্তা উদগ্রীব থাকেন। তারা একটি ল্যাপটপ নিজের নামে ইস্যু করে রেখে দেন। পাঁচ বছর পার হলে সেটি এক টাকার বিনিময়ে নিজের নামে স্থায়ী বরাদ্দ নেন। এই প্রবণতার কারণে ল্যাপটপের সঠিক ব্যবহারও কম হয়।
তবে জিজ্ঞাসার জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান আগামীর সময়কে বলছিলেন, ‘ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কিংবা গাড়ি ব্যবহারের ফলে একসময় উপযোগিতা থাকে না। মূল্য কমতে কমতে শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের অনুশীলন সারা দুনিয়ায় রয়েছে। সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকও করে থাকে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আর অনিয়মের কোনো তথ্য জানা নেই। তবে এক টাকা ডেবিটের মাধ্যমে পরীক্ষা ছাড়াই ল্যাপটপের মালিকানা হস্তান্তর নিয়ম মেনেই করা হয়। এতে দোষের কিছু নেই।’




