আমদানিতে কমছে মরিচের ঝাল
- বর্তমান বাজারে ১৬০-২০০, আরও কমার আশা
- দুদিনে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ আসে
- ভ্যাটের কারণে বেড়েছিল দাম

এলাকায় বর্তমানে কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম আগের তুলনায় কমেছে, কিন্তু এখনো অনেক বেশি।
গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচ যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। বাজারভেদে কেজিপ্রতি দাম উঠেছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। পণ্যটি কিনতে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হওয়ার পর বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে।
রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বললেন, ‘কয়েক দিন আগেও ৩০০ টাকার নিচে মরিচ পাওয়া যায়নি। ১৬০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। দাম আরও কমলে স্বস্তি হবে সাধারণ মানুষের জন্য।’
নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা রাসেল আহমেদ জানিয়েছেন, এলাকায় বর্তমানে কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম আগের তুলনায় কমেছে, কিন্তু এখনো অনেক বেশি। কয়েক মাস আগেও যে মরিচ ৮০-১০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটি এখনো কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চালান আসতে শুরু করেছে। বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাত্র দুদিনে ৩৮ হাজার ৪২০ কেজি কাঁচা মরিচ দেশে প্রবেশ করেছে। ৯ মাস পর হিলি দিয়েও এসেছে ২৮ হাজার ৪৪০ কেজি মরিচ।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানালেন, গত মঙ্গলবার ২৯ হাজার ২২০ কেজি এবং সোমবার ৯ হাজার ২০০ কেজি মরিচ প্রবেশ করেছে। অপেক্ষমাণ ট্রাকগুলো বৃহস্পতিবার প্রবেশ করবে। পচনশীল পণ্য হওয়ায় খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দ্রুততম সময়ে।
তবে আমদানি শুরু হলেও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে— ভারতে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দামের মরিচ বাংলাদেশের বাজারে পৌঁছাতে কেন ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা খরচ হচ্ছে?
আমদানিকারকদের ভাষ্যমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতি কেজির মূল্য ০.৫০ ডলার বা প্রায় ৬১ দশমিক ৭৮ টাকা ধরে শুল্ক নির্ধারণ করছে। ফলে ক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি কর দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স, পরিবহন, এলসি খরচ, কাস্টমস চার্জসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় যুক্ত হয়ে দাম বাড়ছে। সব মিলিয়ে কেজিপ্রতি ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা।
রয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বললেন, ‘আমরা ২৫-৪০ টাকায় মরিচ কিনে আনছি, কিন্তু কাস্টমস প্রায় ৬২ টাকা ধরে শুল্ক নির্ধারণ করছে। প্রকৃত ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণ করা হলে বাজারে আরও কম দামে মরিচ বিক্রি করা সম্ভব হতো।’
আমদানির ইতিবাচক প্রভাব এরই মধ্যে বাজারে দেখা যাচ্ছে। বেনাপোলে পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচ ৩২০ থেকে কমে ২৫০-২৬০ এবং হিলিতে ২৮০ থেকে কমে ২২০ টাকায় নেমে এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ছয় লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ৭ লাখ টন। তবে অধিকাংশ মরিচ শীত মৌসুমে উৎপাদিত হয় এবং বর্ষায় বৃষ্টির কারণে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ কমে যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মণ্ডল বলেছেন, কাঁচা মরিচের গাছ অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। বর্ষায় অনেক ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় কিছু আমদানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাই বলে কেজি ৪০০ টাকা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।






