এক প্লেট ইফতারে খরচ পড়ছে ১৭০ টাকা

ফাইল ছবি
গত বছরের তুলনায় এ বছর ইফতারের প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি আশ্বাসের পরও বাজারে পণ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় নাভিশ্বাস মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইফতার আয়োজনে যদি বেগুনি, আলুর চপ, পিঁয়াজু, ডিমচপ, খেজুর, মুড়ি, শসা, ছোলা, জিলাপি, বুন্দিয়া, আপেল, কলা, মাল্টা, আঙুর—এই আইটেমগুলো রাখতে হয় তাহলে প্লেটপ্রতি খরচ হবে ১৭০ টাকার মতো। একই পণ্য গত বছর রমজানে কিনতে লাগত ৩৪ টাকার মতো কম। সেই হিসাবে এবার প্রায় ২৬ শতাংশের মতো দাম বেড়েছে।
এক কেজি বরই খেজুরের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। প্রতি কেজিতে প্রায় ২০০ থেকে ২২৫টি হয়। সেই হিসাবে দুটি খেজুরের দাম চার টাকা। প্রতি কেজি খেজুরে এবার দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। মুড়ির কেজি ৯০ টাকা। একজন যদি ১০০ গ্রাম মুড়ি খান তাহলে দাম পড়বে ১০ টাকা। ছোলার কেজি ৭৫ থেকে ৯০ টাকা। কিন্তু বাইরে ভাজা ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। একজন যদি ১০০ গ্রাম ছোলা খান তাহলে খরচ পড়বে ২০ টাকা। আলুর চপ ১০ টাকা, পিঁয়াজু ১০ টাকা, বেগুনি ১০ টাকা, ডিমচপ ২০ টাকা। বুন্দিয়ার কেজি ২০০ টাকা, একজন ৫০ গ্রাম বুন্দিয়া খেলে দাম পড়বে ১০ টাকা। শসা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। গত রমজানের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। মাঝারি মানের শসা কেজিতে ৬টি হয়। সেই হিসাবে একটি শসার দাম ২০ টাকা। একজন যদি অর্ধেক শসা খান দাম পড়বে ১০ টাকা। বেগুনের কেজি ১২০ টাকা।
ফলের বাজারেও স্বস্তি নেই। আপেল ও মাল্টা, আঙুরের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে ৪০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আপেলের কেজি ৪২০ টাকা। এক কেজিতে হয় আটটি। সেই হিসাবে একটি আপেলের দাম ৫২ টাকার বেশি। একটি আপেলকে আট টুকরায় ভাগ করলে প্রতি টুকরার দাম পড়বে সাড়ে ছয় টাকা। ইফতারে দুই টুকরার দাম পড়বে প্রায় ১৩ টাকা। মাল্টার কেজি ৪০০ টাকা। মাঝারি আকারের মাল্টা প্রতি কেজিতে পাঁচ-ছয়টি হয়। সেই হিসাবে প্রতিটি মাল্টার দাম পড়ে প্রায় ৮০ টাকা। একটি মাল্টা আটটি টুকরায় ভাগ করলে প্রতি টুকরার দাম ১০ টাকা। একজন যদি দুই টুকরা মাল্টা খান তাহলে খরচ হবে ২০ টাকা। আঙুরের কেজি ৪৫০ টাকা। এক কেজিতে ৪০০ থেকে ৪৫০টি হয়। সেই হিসাবে দুটি আঙুর খেতে খরচ পড়বে দুই টাকা। এবার কলার বাজারেও আগুন। এক হালি কলার দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সেই হিসাবে একটি কলার দাম ১২ থেকে ১৫ টাকা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলছে। এর মধ্যে তাদের দুই স্থানে বাধার মুখে পড়তে দেখা গেছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারে ছোলার দাম বেশি রাখার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেন ভোক্তার কর্মকর্তারা। ওই সময় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিসহ অন্য ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে হৈচৈ শুরু করেন। পরে ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে অভিযান পরিচালনা বন্ধ করে সরে আসেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

