চুক্তির আগেই বিল পরামর্শকের পকেটে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অন্যের ভুলত্রুটি ধরাই যে সংস্থার প্রধান কাজের একটি। এবার তাদেরই প্রকল্পে ধরা পড়েছে নানা অনিয়ম। চুক্তির আগেই বিল চলে গেছে পরামর্শকের পকেটে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিশন এবং বিআইডিএসের বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। ফলে দিনের পর দিন ঝুলে রয়েছে ১৫টি অডিট বা নিরীক্ষা আপত্তি। অনিষ্পন্ন এসব অডিট আপত্তিতে ২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ১৫ জুন পর্যালোচনা সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন সব অডিট আপত্তি-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি এস এম রেজাউল মোস্তফা কামাল।
সূত্র জানায়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে ধরা আপত্তিগুলোর মধ্যে পরিকল্পনা বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) আপত্তি রয়েছে ছয়টি, কার্যক্রম বিভাগের তিনটি এবং পরিকল্পনা বিভাগের ছয়টি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আপত্তি হলো— এক খাতের বরাদ্দ অনুমোদন ছাড়াই অন্য খাতে ব্যয়, চুক্তির বাইরের মডেলের পণ্য সরবরাহ, বাজারদরের বেশি দামে কেনাকাটা, পরামর্শক বিল থেকে ভ্যাট না কাটা এবং আসবাবপত্রে কম হারে ভ্যাট কাটা, চুক্তির আগেই পরামর্শকের বিল পরিশোধ এবং সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করা। এ ছাড়া সরকারি আদেশ পরিপালন না করেই অর্থব্যয় এবং ২০১৫ সালের জাতীয় পে স্কেল লঙ্ঘন ইত্যাদি।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বললেন, ‘এত গুরুতর অনিয়ম সম্পর্কে আমি অবগত নই। আমি প্ল্যানিংকেও ছাড় দিচ্ছি না। যেখানে যেটি অসামঞ্জস্য চোখে পড়ছে, তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একটি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একটি, ২০২০-২১ অর্থবছরের একটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের আটটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের চারটিসহ মোট ১৫টি অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি ঝুলে রয়েছে। বারবার চেষ্টা করেও এসব আপত্তি নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, উন্নয়ন প্রকল্পের ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে চারটি অডিট আপত্তি আছে। এগুলো হলো— মেরামত খাতের বরাদ্দ থেকে সম্পদ সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট মডেলের পরিবর্তে অন্য মডেলের পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। আরও আছে— বাজারদরের চেয়ে বেশি দামে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি যন্ত্রপাতি কেনা। পরামর্শক বিল থেকে ভ্যাট না কেটে রাজস্ব ক্ষতি এবং আসবাবপত্র খাতে কম হারে ভ্যাট কাটা হয়েছে।
‘কার্যক্রম বিভাগে একটি নতুন ডিজিটাল ডেটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পে দুটি অডিট আপত্তি রয়েছে। এগুলো হলো— পরামর্শকের বিল থেকে ভ্যাট না কাটা এবং আসবাবপত্র খাতে কম ভ্যাট কাটা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির আগে পরামর্শককে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। ‘সাপোর্ট টু দ্য ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য বাংলাদেশ ডেল্টাপ্ল্যান’ প্রকল্পে পাঁচটি অডিট আপত্তি রয়েছে। এগুলো হলো— ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল লঙ্ঘন করে প্রকল্পের কর্মীদের অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের যানবাহন প্রকল্পের বাইরের লোকদের জন্য ব্যবহার করায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আইন লঙ্ঘন করে প্রশিক্ষণ বা সেমিনারের জন্য অতিরিক্ত টাকা খরচ। সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে সরাসরি নগদ অর্থে কেনাকাটা করা। জাতীয় বেতন স্কেল লঙ্ঘন করে প্রকল্পের কর্মীদের অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়েছে। আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আইন ভঙ্গ করে প্রশিক্ষণ বা সেমিনারে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সরাসরি নগদ অর্থব্যয়ের ক্ষমতা ভঙ্গ করে কেনাকাটা করা হয়েছে।
আরও যেসব প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে সেগুলো হলো— আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট (পিসিএমই পার্ট), সরকারের জন্য বিশেষ গবেষণা কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে উৎপাদন-কর্মসংস্থান ও খাতভিত্তিক বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সমীক্ষা প্রকল্প।




