শেয়ারবাজার ফের ঊর্ধ্বমুখী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা দুই কার্যদিবস পতনের ধাক্কা সামলে সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস আজ মঙ্গলবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের শেয়ারবাজার। স্বল্পমেয়াদি মুনাফার আশায় বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরে এসে মৌলিকভাবে শক্তিশালী ও আকর্ষণীয় শেয়ারগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগ করায় বাজার আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট কিছু ব্লু-চিপ ও বৃহৎ মূলধনী শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজার পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সরকারের বারবার প্রতিশ্রুতি, বেশ কিছু বাজেট প্রণোদনা এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা বাজারের সার্বিক ভাবাবেগ উন্নত করতে সহায়তা করেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং শেয়ারে বিনিয়োগে উৎসাহ জুগিয়েছে।
বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বাজার এখন তার স্বাভাবিক আচরণ করছে। গত কয়েক দিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অনেকেই মুনাফা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যার কারণে গত দুই দিন বাজার কিছুটা নিম্নমুখী ছিল। তবে বাজারের সার্বিক বিবেচনায় লেনদেন কিছুটা কম আছে। আমরা আশা করছি, সামনে লেনদেন বাড়বে।’
মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও মোট লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ ডিএসইতে ৩৯৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৭৯টির, কমেছে ৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। এদিন ডিএসইতে ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
ডিএসইর মতো দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ১১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ সিএসইতে ২১১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। দিনশেষে সিএসইতে ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারদর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দিনভর ১১ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে, আজ ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৭৪ কোটি ৩৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি ১১ লাখ ৩১ হাজার টাকার এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩২ কোটি ৬৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকার।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, সিনো-বাংলা, রবি আজিয়াটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এনসিসি ব্যাংক এবং বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড।






