শেয়ারবাজারে নেই ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’, গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিভিন্ন গুজব ও বিক্রির চাপে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলছে, বাজারে কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বরং একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই গুজবে কান না দিয়ে তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উচিত বিনিয়োগকারীদের।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিনে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ বা সূচকের তীব্র পতন সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। কোন উৎস থেকে বড় আকারের শেয়ার বিক্রির চাপ আসেছে, তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখতে পারে বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স টিম।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সময়ে শরিয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর এবং মোট লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়।
ডিএসইর এই নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। আজ সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০৮২ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টির দর বেড়েছে, ১৭৪টির কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনশেষে সেখানে মোট ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বললেন, মার্কেট সার্ভিল্যান্স নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে যে নজরদারি কার্যক্রম চলছে, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। ২০১৩ সাল থেকেই স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসি রিয়েল-টাইম ভিত্তিতে এ ধরনের সার্ভিল্যান্স পরিচালনা করে আসছে।
তিনি জানালেন, কমিশনের পক্ষ থেকে বাজারে কোনো ধরনের অযাচিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতেও করা হবে না। একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন বললেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে অনেক শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করছেন।
তবে তিনি মনে করেন, একদিনে বড় ধরনের বিক্রির চাপ বা সূচকের তীব্র পতন সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর পেছনে প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীর ভূমিকা থাকতে পারে। তিনি বলেন, ডিএসইর সার্ভিল্যান্স টিম চাইলে সহজেই শনাক্ত করতে পারবে কোন উৎস থেকে বড় আকারের বিক্রির চাপ এসেছে এবং কোন শেয়ারগুলোকে কেন্দ্র করে সূচকে প্রভাব ফেলা হয়েছে।





