অর্থায়নই উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

সংগৃহীত ছবি
বৈশ্বিক ব্যবসার ৯০ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতাভুক্ত হলেও, অর্থায়ন এখনো এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের ৪১ শতাংশ এবং মধ্যম আয়ের দেশের ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তাই সহজে ঋণ পান না। অথচ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে যে ৬০ কোটি নতুন কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হবে, তার প্রতি ১০টির মধ্যে সাতটিই আসবে এই এমএসএমই খাত থেকে।
এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতায় ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যতে মানবকেন্দ্রিক উদ্যোগ: মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশে পালিত হলো দশম আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), বাংলাদেশের সহযোগিতায় সেমিনার, বর্ণাঢ্য র্যালি ও প্রচারের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।
গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবন মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বললেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ব্যবসা-অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করছে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এমএসএমই খাতের উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানালেন, বাজেটে এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ‘সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম’ প্রতিষ্ঠা, ক্লাস্টার ম্যাপিং হালনাগাদকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইয়েস প্রোগ্রাম’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উইম্যান এনট্রাপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল দেশের নারী উদ্যোক্তাদের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বললেন, ‘দেশে প্রায় এক কোটি পুরুষ উদ্যোক্তার বিপরীতে নারী উদ্যোক্তা মাত্র সাত লাখ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নারী উদ্যোক্তা বাড়লে পারিবারিক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।’ স্বাগত বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানালেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশনটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২২ লাখেরও বেশি উদ্যোক্তাকে সেবা দিয়েছে, যার ৬০ শতাংশই নারী।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএলও বাংলাদেশের প্রধান ম্যাক্স টুনন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজিম হাসান সাত্তার ফাউন্ডেশনের সামগ্রিক কার্যক্রমের চিত্র উপস্থাপন করেন।




