এআইইউবিতে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি অনুধাবন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার

সংগৃহীত ছবি
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন (এসপিএফ) এবং রিক্কিও ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এআইইউবি অডিটোরিয়ামে “বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি অনুধাবন” শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত এ সেমিনারটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়াবলি নিয়ে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা এবং একাডেমিক সংলাপকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিএমএস ফেলো এবং রিক্কিও ইউনিভার্সিটির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ড. নাওনোরি কুসাকাবে। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান বিনিময় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সমসাময়িক আঞ্চলিক কৌশলগত আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার গুরুত্ব উপস্থাপন করেন। এছাড়াও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ (সিএমএস)-এর পরিচালক ড. আকিকো হোরিবা, টোকিও ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজের ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল স্টাডিজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও সিএমএস ফেলো ড. মাসাতো তোরিয়া এবং এসপিএফ-এর প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মিস কিয়োকা ওইমাতসু। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং নীতিনির্ভর গবেষণা অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণে জাপানের আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং গঠনমূলক নীতিনির্ধারণী সংলাপকে এগিয়ে নিতে এআইইউবির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এআইইউবির রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম খান। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবনে একাডেমিক গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পরিবর্তিত আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর একটি সম্ভাবনাময় কৌশলগত আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের সক্ষমতা অর্জন করছে।
সেমিনারে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এআইইউবির ফিন্যান্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ “দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভূমিকা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি তাঁর প্রবন্ধে তুলে ধরেন, বাংলাদেশের উন্নয়নগত সাফল্য কীভাবে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যেমে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এস. এম. আলী রেজা “বাংলাদেশ - জাপান সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতির ভবিষ্যৎ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আন্তর্জাতিক নীতি ও বৈশ্বিক সুশাসনের বিষয় নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল-এর সহকারী অধ্যাপক মো. মোস্তফা হোসেন “আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে: বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও জাপানের ভূমিকা” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে. এম. মাহিউদ্দিন “দেশীয় রাজনীতি, সুশাসন এবং আঞ্চলিক পরিম-লে বাংলাদেশের অবস্থান” শীর্ষক প্রবন্ধে অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক সালেহ মো. শাহরিয়ার “বাংলাদেশে চীনের সফ্ট পাওয়ার কৌশল” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সবশেষে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর অধ্যাপক শাহাব এনাম খান “দক্ষিণ এশিয়ায় জাপানের সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের তাৎপর্য” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষকসহ, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারণী বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বিকাশমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং পরিবর্তনশীল কৌশলগত সমীকরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সুশাসন, কূটনীতি, অর্থনৈতিক রূপান্তর, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জাপানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিদ্যমান সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিরা পারস্পরিক মতবিনিময়, ধারণা বিনিময় এবং বাংলাদেশ, জাপান ও বৃহত্তর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মধ্যে ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পান।




