ডলারে নতুন ঝড়
ঋণ শোধে রেকর্ড
- একদিকে কমছে প্রবাসী আয়, অন্যদিকে বাড়ছে বিদেশি ঋণ পরিশোধের বোঝা। বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ ও বহির্গমনের এই দুই বিপরীতমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নতুন সতর্কবার্তা হয়ে দেখা দিয়েছে। জুলাইয়ে টানা ছয় মাসের ধারাবাহিকতা ভেঙে রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ-আসল মিলিয়ে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ একসঙ্গে বাড়তে থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিনিময় হার এবং আমদানি সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

ফাইল ছবি
সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪৫০ কোটি ডলার (৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এযাবৎকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ। এর আগে আগের অর্থবছরে ৪০৯ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়।
গতকাল রবিবার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হবে শিগগিরই। এর আগে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ঋণের কিস্তি দেওয়া শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব শফিকুল আজম বললেন, এরই মধ্যে অনেক মেগা প্রকল্পের রেয়াতকাল শেষ হয়ে গেছে। ফলে সুদ ও আসল মিলিয়ে পরিশোধের পরিমাণ বাড়ছে। এটি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে থাকবে।
তিনি আরও বললেন, এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুত থাকা প্রয়োজন। ইআরডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলার। ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার। এদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাড়লেও কমেছে বিদেশি ঋণছাড় ও ঋণের প্রতিশ্রুতি।
গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি এসেছিল ৮৩২ কোটি ডলারের। এ ছাড়া ঋণ ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার। এদিকে ঋণ দেওয়া বিশ্বব্যাংক ২০৭ কোটি ডলার, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার, রাশিয়া ১০৫ কোটি ডলার। তবে ঋণের অর্থ ছাড় করলেও ভারত ও চীন গত অর্থবছরে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।






