বাজারে বাজেটের প্রভাব কতটা?

সংগৃহীত ছবি
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর মানুষের আগ্রহ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। কিছু পণ্যে কর বা শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে বাজার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে ভোক্তারা। তারা আশা করছেন, বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবারের বাজেট।
তবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, বাজেটে দাম কমার ঘোষণা এলেও বাজারে সেই প্রভাব দ্রুত দেখা যায় না। অথচ দাম বাড়ার সম্ভাবনার খবর এলেই সঙ্গে সঙ্গে চড়া হয় বাজার।
এর আগে গতকাল প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে কৃষিপণ্য, শিশুখাদ্য, ভোজ্য তেল ও খেজুরের দাম কমার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সিগারেট, আমদানিকৃত ফল, চকলেট ও আইসক্রিমের দাম বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে বাজেট পাশের আগেই বাজারে সিগারেটের দাম বেড়ে গেছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
রাজধানীর কয়েকজন সিগারেট বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা আগের তুলনায় বেশি দামে সিগারেট কিনতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বিক্রেতা রাইহান বলেছেন, ‘বাজেটের পর এখনো নতুন সিগারেট বাজারে আসেনি। তবে আমরা আগের দামে সিগারেট কিনতে পারছি না। বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে বেশি দামেই বিক্রি করছি। গত সাত দিনে সিগারেটের দাম বেড়েছে। বাজেটকে কেন্দ্র করে কোম্পানির সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। তাই অন্য এলাকার ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, দাম বাড়লেও সিগারেটের বিক্রিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম এখনো আগের মতোই রয়েছে।
অন্যদিকে, কারওয়ান বাজারের কৃষিপণ্য বিক্রেতা নাজমুল ইসলাম বলছিলেন, ‘কৃষিপণ্যের দাম মূলত নির্ভর করে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ওপর। বাজেটের কারণে দাম বাড়বে বা কমবে এমন নিশ্চয়তা নেই।’
তার ভাষ্য, ‘কাঁচামালের দাম বাড়বে না কমবে, এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না। কোনো সবজির সরবরাহ কম থাকলে দাম বেড়ে যায়। আবার বাজারে ক্রেতা কম থাকলে দাম কমে যায়। আবহাওয়ারও প্রভাব আছে। বৃষ্টি হলে অনেক সময় কাঁচা মরিচের দাম কমে যায়। তাই বাজেটের সঙ্গে সব সময় বাজারদরের সরাসরি সম্পর্ক থাকে না।’
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা মোহাম্মদ সাজু মিয়া বলেছেন, ‘বাজেটের পর বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হবে বলে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এখনো তেমন কিছু ঘটেনি। আজ বাজারে এসে দেখলাম দাম মোটামুটি কমই আছে। গতকাল আসিনি, তাই পুরো হিসাব জানি না। সাধারণত বর্ষা শুরু হলে সবজির দাম বেড়ে যায়। কিন্তু এবার বর্ষা শুরু হলেও এখনো দাম বাড়েনি।’
শিশুখাদ্যের দোকানগুলোতেও এখনো কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিক্রেতা মোহাম্মদ মাসুদ বলছিলেন, ‘এখনো দাম বাড়েনি বা কমেনি। আমরা আগের রেটেই বিক্রি করছি। সংবাদে দেখেছি কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে। যদি কমে, তাহলে অবশ্যই কম দামে বিক্রি করব। নতুন দামে মাল বাজারে আসলে তখন নতুন রেটে বিক্রি করা হবে।’
আরেক বিক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাজেট তো মাত্র হয়েছে। দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। শুনেছি শিশুখাদ্যের দাম কমার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে এখনো কোনো পরিবর্তন দেখিনি। আমরা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদেরও কম দামে দিতে পারব।’
একই চিত্র দেখা গেছে ভোজ্যতেলের বাজারেও। তেল ব্যবসায়ী আবুল কাশেম জানান, দাম বাড়ছে না কমছে, সেটা এখনো জানি না। বাড়ার হিসাবও পাইনি, কমার হিসাবও পাইনি। ঈদের আগেই তেলের দাম বেড়েছিল। এরপর থেকে একই দাম চলছে। আমরা ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে পণ্য কিনি। নতুন কোনো রেট এখনো আসেনি।
খেজুর ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের কথায় ফুটে ওঠে ব্যবসায়ীদের আরেক বাস্তবতা। তিনি বলেছেন, ‘টিভিতে দেখি দাম কমার কথা বলা হয়। কিন্তু আমরা যখন বাজার থেকে কিনতে যাই, তখন তো কম দামে পাই না। আমাদের কেনা দাম না কমলে আমরা কীভাবে কম দামে বিক্রি করব? এখন পর্যন্ত দাম বাড়েও নাই, কমেও নাই।’ বাজেটের প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী অপেক্ষা করছেন নতুন চালানের।
তবে বাজার নিয়ে হতাশা রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, বাজেটে কোনো পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা এলেও সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে আগের দামই বহাল থাকে। কিন্তু দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেই বিভিন্ন স্তরে আগাম মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়ে যায়।




