অবশেষে বাতিল হচ্ছে ন্যূনতম করের আইন
- উৎসে কাটা কর গণ্য হবে অগ্রিম হিসেবে

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সমালোচনার মুখে থাকা ন্যূনতম করের একটি বিতর্কিত বিধান বাতিল করা হচ্ছে আগামী বাজেটে। উৎসে কাটা অর্থকে আর বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে গণ্য করা হবে না, বরং সুযোগ দেওয়া হবে তা অগ্রিম হিসেবে সমন্বয়ের। ফলে ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে কোনো প্রতিষ্ঠানের করযোগ্য আয় না থাকলে কিংবা লোকসান হলে, উৎসে কাটা অতিরিক্ত টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ। একই সঙ্গে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং হয়রানি কমাতে প্রস্তাব করা হয়েছে আরও কয়েকটি সংস্কার।
এ পরিবর্তন ব্যবস্থাটিকে আরও ন্যায্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত করবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ আগামীর সময়কে বললেন, এটি ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ। তবে এর সাফল্য নির্ভর করছে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। রিফান্ডের টাকা সঠিকভাবে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন সহজ প্রক্রিয়া। যেন কোনো হয়রানির শিকার না হয়। সে ব্যাপারে নির্দেশনা থাকা দরকার।
বর্তমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন পর্যায়ে উৎসে যে কর কাটা হয়, এর একটি অংশ গণ্য হয় ন্যূনতম কর হিসেবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আয় না থাকলেও সেই কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। এতে বিশেষ করে বড় ধরনের তারল্যসংকটে পড়ে ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো।
বিদ্যমান ব্যবস্থার নেতিবাচক দিক তুলে ধরে নীতি বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা, কোনো ছোট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বছরে ১ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করলে বন্দরে উৎসে কর ৫ লাখ টাকা কাটা হয়। কিন্তু বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হলে থাকে না করযোগ্য আয়। এরপরও তার থেকে নেওয়া হয় ৫ লাখ টাকা। নতুন ব্যবস্থায় সেটি অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয় হবে এবং ফেরত পাওয়া যাবে অতিরিক্ত অংশ।
এ ছাড়া বাজেটে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। এর মধ্যে উৎসে কর না কাটার কারণে করমুক্ত খরচ বাতিল করার বিধান প্রত্যাহার অন্যতম। ফলে কমবে ব্যবসায়ীর করযোগ্য আয়। পাশাপাশি অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্বয়ংক্রিয় ও ঝুঁকিভিত্তিক করা হচ্ছে অডিট নির্বাচন প্রক্রিয়া।
‘লোকসানি প্রতিষ্ঠান থেকেও বাধ্যতামূলকভাবে কর আদায় ব্যবস্থাটি মূল দর্শনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করলে ব্যবসার খরচ কমার সঙ্গে বাড়তে পারে মুনাফা। একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি করব্যবস্থার প্রতি আস্থাও বাড়বে— আইনটি বাতিলের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ।
এতে কর ঘাটতি হতে
পারে উল্লেখ করে এনবিআরের কর্মকর্তারা জানালেন, স্বল্প মেয়াদে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা
চাপ তৈরি হতে পারে। নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত এবং আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে সেই ঘাটতি সামাল
দিতে চায়
সরকার।




