শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দাবি ঢাকা চেম্বারের

নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সভায় সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ গ্রহণ সীমিত রাখার বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে এই দাবি সংগঠনটির।
আজ শনিবার সকালে মতিঝিল ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এই সংস্কারের আহ্বান জানান সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সভায় সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ গ্রহণ সীমিত রাখা, ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা এবং রাজস্ব প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরে সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান ও ড. জায়েদি সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞরা।
মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের ধীরগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি কৃত্রিম তন্তু (সিনথেটিক ফাইবার) আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের তাগিদ দেওয়া হয়।
এছাড়া চামড়া খাতের উন্নয়নে সাভারের সিইটিপি আধুনিকায়ন এবং দেশব্যাপী কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব করা হয়। কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধিতে জলবায়ু সহনশীল বীজ সরবরাহ বাড়ানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিল্প-নির্ভর ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তাসকীন আহমেদ সরকারকে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ঋণ না নিয়ে তুলনামূলক সহজ শর্তের বৈদেশিক অর্থায়নের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এ ছাড়া এনবিআরের কার্যক্রম দ্রুত ডিজিটালাইজড করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য নির্ধারিত প্রণোদনা প্যাকেজের যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।
বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভিসা, বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট এবং কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া সহজ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০২৯ সালের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের আহ্বান জানানো হয়েছে।







