বাজেট ২০২৬-২৭
আবাসনে কালোটাকা সাদার সুযোগ থাকছে

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ কিছু খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ এবং বিদেশে থাকা অঘোষিত সম্পদ দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে সরকার।
আবাসনসহ কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের শর্তে এই সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ক্ষেত্রে নিয়মিত করহারের চেয়ে কিছু বেশি হারে কর আরোপ করা হতে পারে, যাতে সৎ করদাতারা বৈষম্যের শিকার না হন।
একই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ দেশে ফেরানো এবং বিনিয়োগের প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকতে পারে বলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তারা বলেছেন, ১৪ মে তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন। বিশেষ করে আবাসন খাত, উৎপাদনমুখী শিল্প এবং বিদেশে থাকা অঘোষিত সম্পদ দেশে ফেরানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে এনবিআরের কর কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মূল্যায়ন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী করহার এবং শর্তাবলি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানা গেছে।
এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘উদ্দেশ্য কর ফাঁকিবাজদের পুরস্কৃত করা নয়, বরং অলস ও অঘোষিত মূলধনকে উৎপাদনশীল অর্থনীতিতে নিয়ে আসা।’ প্রস্তাবিত সুবিধার আওতায় বিদেশে থাকা অর্থ দেশে এনে নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করলে বিশেষ হারে কর দিয়ে তা বৈধ করা যাবে। পাশাপাশি আবাসিক ফ্ল্যাট, বাণিজ্যিক ভবন কিংবা শিল্প স্থাপনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুযোগ রাখার আলোচনা চলছে।
অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের পর সেটি বাস্তবে ব্যবহার হয়েছে কি না— তা নিশ্চিত করতে নীতিমালা করা হবে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নতুন নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ বার এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ ছিল। পরে সমালোচনার মুখে অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুবিধা বাতিল করে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, যারা নিয়ম মেনে কর দেন, তাদের তুলনায় কর ফাঁকিবাজদের সুবিধা দিলে তা দীর্ঘ মেয়াদে করনৈতিকতা দুর্বল করে।
তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, সরকার আগের মতো কম কর দিয়ে ‘অ্যামনেস্টি’ দিতে চায় না।
তার ভাষায়, ‘রেগুলার রেটে কর দিয়ে টাকা দেশে আনলে সরকার পেনাল্টি করবে না। কিন্তু কম কর দিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’




