ঘাটাইলে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে শত শত পরিবার

জলাবদ্ধতায় বন্দি ঘাটাইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দশী গ্রামের বাসিন্দারা। ছবি: আগামীর সময়
অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দশী গ্রামে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িতে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, গৃহিণীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শেষ হলেও গ্রামে জমে রয়েছে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। কোথাও চলাচলের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা, কোথাও আবার বাঁশের সাঁকো। অনেককে প্রতিদিন পচা পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে মশার উপদ্রব ও বিষাক্ত সাপের আনাগোনা। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
জলাবদ্ধতার কারণে শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এতে তাদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আবাদি জমি পানির নিচে থাকায় সময়মতো চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ঘাটাইল পৌরসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও চান্দশী গ্রামে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না। সময়ের সঙ্গে পৌরকর বাড়লেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে কয়েক দিন আগে চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। বছরের পর বছর এ সমস্যা চললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি।
চান্দশী গ্রামের বাসিন্দা আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, বর্ষা শেষ হলেও পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে থাকায় শত শত পরিবার দুর্ভোগে রয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে মশার উপদ্রব বেড়েছে এবং ডেঙ্গু ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক নূরী তাসমিন উর্মি জানিয়েছেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে তিনি চান্দশী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




