‘থানা পুড়িয়ে দেওয়া’ সেই মাহদী ধাওয়া খেয়ে থানায়

মাহদী হাসান
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা চেষ্টার অভিযোগ তুলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় আশ্রয় নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব (হবিগঞ্জ শাখা) মাহদী হাসান। বুধবার বিকালে জেলা সদরের পুরাতন হাসপাতাল সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থেকে ফেসবুক লাইভে হাজির হন তিনি।
লাইভে মাহদী বলছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে হামলার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। তার ভাষ্য, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একটি জরুরি বৈঠক চলছে। সদর মডেল থানার ওসি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন। তার বক্তব্য, ‘মাহদীর লাইভে করা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। রিকশার পেছনের অংশে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও সাজানো নাটক।’
এর আগে পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন ২১ বছর বয়সী মাহদী। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ শাখার সদস্যসচিব।
২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেন মাহদী। সে সময় সংগঠনের হয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন। জুলাইয়ের শেষ দিকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
পরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকায় আরও পরিচিতি পান।
গত ১ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে আটক করে। এরপর মাহদী অনুসারীদের নিয়ে থানায় যান এবং নয়নকে আটকের কৈফিয়ত চান পুলিশের কাছে। এমন একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ওই ভিডিওতে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরদিন বানিয়াচংয়ের ‘নাইন মার্ডার’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলছিলেন, ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’ এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওসিকেও হুমকি দেন এবং নয়নকে ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্তি পান।




